Published : 23 May 2026, 03:32 PM
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক এবং নয়া দিল্লির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মিত্রতা মেরামত করতে ভারত সফরে গিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
রয়টার্স জানায়, ধর্ম বিশ্বাসে রোমান ক্যাথলিক রুবিও শনিবার কলকাতায় নামার পর মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন।
দিনের পরবর্তী সময়ে নয়া দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। তবে এর আগে নয়া দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতে রুবিও প্রধানত বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে কথা বলবেন। এ সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগ্রা ও জয়পুরে যাওয়ারও কথা রয়েছে।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পসহ মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের বাড়তে থাকা প্রভাবের প্রতিপক্ষ হিসেবে ঐতিহাসিকভাবে জোট নিরপেক্ষ ভারতকে কাছে টানার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু গত বছর ট্রাম্প ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়াতে ওই প্রচেষ্টা ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে এসব শুল্কের অনেকগুলোই প্রত্যাহার করা হয়েছে, কিন্তু দুই দেশ বাণিজ্য নিয়ে এখনো একটি বিস্তারিত চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত কোয়াড দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত করে ট্রাম্পকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়া দিল্লি। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধসহ নানা বাস্তবতার মধ্যে বিষয়টি আর এগোয়নি।
আর এদিকে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ফের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইসলামাবাদ ওয়াংশিটন ও তেহরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠেছে। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কে নতুন বিরক্তি যোগ করেছে।
যুদ্ধের কারণে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে তাতে রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা হ্রাসের মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়েছে। রুবিও জানিয়েছেন, ভারতে জ্বালানি সরবরাহে নিজেদের অংশ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আলোচনা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক দক্ষিণ এশিয়া নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এশিয়া গ্রুপের সঙ্গে থাকা বাসান্ত সাংঘেরা বলেছেন, চলতি মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সফরের সময় ট্রাম্পের মনোভাব ভারতে ‘উদ্বেগের এক চরম ঝড় তৈরি করেছিল’।