Published : 04 Jul 2025, 07:20 PM
বিশ্ব নেতাদের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন রাশিয়ার ১১ জন ভিন্নমতাবলম্বী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে এই চিঠি প্রকাশ করা হয়।
যৌথ এই চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা, রাশিয়ান রাজনৈতিক বন্দিরা সেইসব আন্তর্জাতিক নেতার কাছে আবেদন করছি, যারা মানুষকে তাদের বিশ্বাসের জন্য ভোগান্তির শিকার হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন।
আমাদের মধ্যে অন্তত ১০,০০০ জন - রাশিয়ান রাজনৈতিক বন্দি এবং ইউক্রেইনীয় বেসামরিক জিম্মি আছেন। আমাদের সবাইকে একটি কারণে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আর তা হল: জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
রাশিয়ায় আজ ন্যায়বিচার ও ন্যায়পরায়ণতার ধারণা অনুপস্থিত। কেউ সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করার সাহস দেখালে তাকে কারাগারে যেতে হয়।
চিঠিতে আরও লেখা হয়, ২০১২ সাল থেকে রাশিয়ায় যে কোনও ভিন্নমত দূর করতে নিপীড়নমূলক আইন ধারাবাহিকভাবে কঠোর করা হয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অন্তত ৫০টি নিপীড়নমূলক আইন গৃহীত হয়েছে, এবং ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আরও ৬০টির বেশি এমন আইন হয়েছে।
রাশিয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা মামলাগুলোতে কোনও বেকসুর খালাস হয়না। নির্মম শাস্তির বিধান বাড়ছে। ১০, ১৫ এবং ২০ বছরের জেলের সাজা হলে কেউ অবাক হবে না। পার্লামেন্টে প্রতিনিয়তই মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার দাবি তোলা হয়।
রাজনৈতিক মামলাগুলোর ষুষ্ঠু শুনানির সুযোগ রাশিয়ার আদালতগুলোতে আগে থেকেই কম ছিল। তবে ২০২২ সালে রাশিয়া ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকে সেই সুযোগ পুরোপুরি নাই হয়ে গেছে।
চিঠিতে এও বলা হয় যে, আধুনিক রাশিয়ায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো তেনভাবে কার্যকর না থাকায় বন্দিদের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকিতে আছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং চাপ প্রয়োগ হলে এর তদন্ত কিংবা শাস্তি হয় না।
রাজনৈতিক বন্দিদের অন্যান্যদের তুলনায় প্রায়ই কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রাখা হয় এবং প্যারোল ও আইনি ছাড় থেকে বঞ্চিত করা হয়। তবে এত কিছুর পরও আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলিনি, বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাইনি। আমরা আমাদের নাগরিক অবস্থান ধরে রেখেছি।
রাশিয়া এবং ইউক্রেইনের মধ্যে শান্তি আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধবন্দি এবং বেসামরিক নাগরিকদের অবিলম্বে বিনিময়ের আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে। যার মধ্যে ইউক্রেইনের বেসামরিক জিম্মিরাও আছে।
রাশিয়ার কারাগারে থাকা অসুস্থ রাজনৈতিক বন্দি, যারা মৃত্যুর পথে রয়েছেন তাদেরকেও অবিলম্বে এবং নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।
রাজনৈতিক কারণে রাশিয়ায় নিপীড়নের শিকার হওয়া সব বন্দিকে মুক্ত করার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য চিঠিতে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদেরকে আহ্বান জানানো হয়।
তাছাড়া, গণমাধ্যমকে নীরব ভূমিকা পালন না করা এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামে যে রুশ নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তাদের কার্যকলাপ প্রতিবেদনে তুলে আনার আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।
গণতান্ত্রিক দেশগুলোর রাজনীতিবিদদেরকেও রাশিয়ানদের সংগ্রামে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পার্লামেন্ট, রাজনৈতিক অ্যাসোসিয়েশন এবং পার্টির পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা গ্রহণ করতে বলা হয় চিঠিতে।