Published : 31 Dec 2025, 10:32 AM
ইরানে মুদ্রার দরপতন ও মূল্যস্ফীতিতে সৃষ্ট অসন্তোষে তৃতীয় দিনের মতো প্রতিবাদ ও ধমর্ঘট দেখা গেছে, যা রাজধানী তেহরান থেকে দেশটির অন্যান্য শহরেও ছড়িয়েছে।
খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন হওয়ার পর রোববার তেহরানের গ্রান্ড বাজারের দোকানিরা ধর্মঘট শুরু করে, তৃতীয় দিন মঙ্গলবার যা দেশজুড়ে ছাড়ানোর পথে ছিল।
সামাজিক মাধ্যমে আসা ভিডিওগুলো যাচাই করে বিবিসি ফার্সি জানিয়েছে, তেহরানের পাশাপাশি দেশটির কারাজ, হামেদান, গেশম, মালার্ড, ইসফাহান, কেরমানশাহ, শিরাজ ও ইয়াজদ শহরেও বিক্ষোভ দেখা গেছে। আর বিক্ষোভ দমনে পুলিশকে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করতেও দেখা গেছে।
ইরানের সরকার জানিয়েছে, তারা এই ‘প্রতিবাদকে স্বীকার করে’ আর ‘যদি এটি কঠোর প্রতিবাদের রূপও নেয় তবু তারা ধৈর্য্য ধরে শুনবে’।
সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্স এ লিখেছেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিনিধিদের’ সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন, যেন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে ‘সমস্যা সমাধানে’ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
পরিস্থিতির চাপে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদরেজা ফারজিন পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে সাবেক অর্থমন্ত্রী আব্দুলনাসের হেম্মাতিকে নতুন গর্ভনর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছেন। তারা সরকারবিরোধী শ্লোগান দিয়েছেন। এর মধ্যে ‘একনায়কের মৃত্যু’র মতো শ্লোগানও ছিল।
বিবিসি লিখেছে, দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা যার হাতে সেই শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে এই শ্লোগানটি দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিবাদকারী দেশটির সাবেক শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নামেও শ্লোগান দিয়েছেন।
এতে সাড়া দিয়ে মৃত ওই সাবেক শাসকের ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত রেজা পাহলভি এক্স এ লিখেছেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। যতদিন এই শাসকরা ক্ষমতায় থাকবে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপই হতে থাকবে।”
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্সি ভাষার এক্স একাউন্টে এই প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।
সোমবার ফ্লোরিডায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেননিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈঠক করেন। তাদের বৈঠকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠক পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এটা বলতে রাজি হননি যে তিনি ইরানের শাসন পরিবর্তনে সমর্থন দিচ্ছেন কি না, এর বদলে তিনি বলেছেন, “তাদের অনেক সমস্যা: মারাত্মক মুদ্রাস্ফীতি, তাদের অর্থনীতি দেউলিয়া হয়ে গেছে, অর্থনীতির অবস্থা ভালো না আর আমি জানি জনগণ সন্তুষ্ট না।”