১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউক্রেইন আলোচনায় অগ্রগতির কথা বললেন ট্রাম্প, ‘জটিল সমস্যা’ রয়েই গেছে

“গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেইনীয় ও মার্কিন দলের আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি,”বলেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেইন আলোচনায় অগ্রগতির কথা বললেন ট্রাম্প, ‘জটিল সমস্যা’ রয়েই গেছে
ফ্লোরিডায় বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ডনাল্ড ট্রাম্প ও ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Dec 2025, 10:12 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:25 PM

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইউক্রেইন যুদ্ধের অবসান নিয়ে অগ্রগতি হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। 

তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়টি যে এখনো ‘অমীমাংসিত’ রয়ে গেছে তা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রইন—উভয় দেশের প্রেসিডেন্টই আলোচনাকে ‘দারুণ’ বলে বর্ণনা করলেও ট্রাম্প বলেন, ‘এক বা দুটি খুবই জটিল বিষয়’ এখনো বাকি আছে, বিশেষ করে ভূখণ্ডের প্রশ্নে।

মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলেনস্কি জানান, ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার প্রায় ’৯০ শতাংশের’ বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। আর ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেইনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আলোচনা প্রায় ’৯৫ শতাংশ’ সম্পন্ন।

জেলেনস্কি পরে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেইনের প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে আবার বৈঠকে বসবে।

মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, “সব বিষয়ে আমাদের গভীর আলোচনা হয়েছে এবং গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেইনীয় ও মার্কিন দলের আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি।”

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে এবং বর্তমানে ইউক্রেইনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, পূর্ব ইউক্রেইনের দনবাস অঞ্চলকে নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চলে রূপান্তরের প্রস্তাব এখনো ‘অমীমাংসিত’ রয়েছে।

ওই অঞ্চলটির বড় অংশই এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে বলে জানান তিনি।

বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ওই ভূখণ্ডের কিছু অংশ দখল করা হয়েছে। কিছু অংশ নিয়ে হয়ত টানাটানি চলছে, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেগুলো দখলে চলে যেতে পারে।”

বর্তমানে মস্কো দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং প্রতিবেশী লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এ দুই অঞ্চল সম্মিলিতভাবে দনবাস নামে পরিচিত।

রাশিয়া চায়, দনবাসে যেটুকু এলাকা এখনো ইউক্রেইনের নিয়ন্ত্রণে আছে, সেখান থেকে তারা সরে যাক। অন্যদিকে কিইভ জোর দিয়ে বলছে, এলাকাটি ইউক্রেইনীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা যেতে পারে।

বিবিসি লিখেছে, ইউক্রেইনের হারানো ভূখণ্ড নিয়ে ট্রাম্প একাধিকবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি পর্যবেক্ষকদের চমকে দিয়ে বলেছিলেন, ইউক্রেইন হয়ত অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারবে। পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।

ট্রাম্প বলেন, “এটা খুবই কঠিন একটি বিষয়। তবে এর সমাধান হবে।”

ভবিষ্যৎ হামলা থেকে ইউক্রেইনকে রক্ষার প্রশ্নে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আলোচনা প্রায় ’৯৫ শতাংশ’ সম্পন্ন হলেও লজিস্টিক সহায়তা বা সেনা মোতায়েন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অঙ্গীকার হয়নি বলে জানান ট্রাম্প।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সম্ভাবনার কথাও তোলেন। তিনি বলেন, ‘সঠিক সময়ে’ তা হতে পারে।

ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধকে নিজের দাবি করা সংঘাত সমাধানের তালিকায় যুক্ত করতে আগ্রহী হলেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আলোচনা যদি ‘খুব খারাপভাবে’ ভেঙে পড়ে বা বাতিল হয়, তবে যুদ্ধ চলতেই থাকবে।

এর আগে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সেই আলাপচারিতার বিস্তারিত না জানালেও ট্রাম্প বলেন, তার বিশ্বাস, ইউক্রেইন ‘সফল হোক’, এটা পুতিন চান।

একই সঙ্গে ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইউক্রেইনকে গণভোট করার সুযোগ দেবে—এমন যুদ্ধবিরতিতে মস্কোর তেমন আগ্রহ নেই। 

রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, ট্রাম্পই ফোন করেছিলেন এবং তিনি ও পুতিন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেইনের সাম্প্রতিক শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত উশাকভ বলেন, ট্রাম্প ক্রেমলিনের মূল্যায়ন মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দুই প্রেসিডেন্টই একমত হন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেইন প্রস্তাবিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।

জেলেনস্কি ইঙ্গিত দেন, জানুয়ারিতে ইউক্রেইনীয় কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসে বৈঠকের বসতে পারেন। ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। 

এদিকে ফ্লোরিডা আলোচনায় ‘অগ্রগতির’ বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে প্রশংসা করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। তিনি প্রথম দিন থেকেই ইউক্রেইনের জন্য ‘নিরাপত্তার নিশ্চয়তা’ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।