Published : 08 Dec 2025, 09:22 PM
শান্তিপ্রস্তাব নিয়ে লন্ডনে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
সেখানে জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে সোমবারই।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউক্রেইন ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার সময় সর্বসাম্প্রতিক খসড়া ইউক্রেইন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে নেতারা আলোচনা চালাচ্ছেন।
বৈঠক শুরুর আগে দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জেলেনস্কিকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমরা ইউক্রেইনের পাশে আছি।” ওদিকে, জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।”
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, লন্ডনের বৈঠকে নেতারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেইনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ইউক্রেইন পতনের দ্বারপ্রান্তে নেই। আমরা রাশিয়ার সঙ্গে যেহেতু তাৎক্ষণিকভাবে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছতে নাও পারতে পারি, সেহেতু ইউক্রেইনকে তাদের প্রয়োজনয়ি সব সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাওয়াটা আমাদের জন্য অপরিহার্য।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এর আগে রোববার দাবি করেন, জেলেনস্কির শান্তি আলোচকরা সর্বসাম্প্রতিক পরিকল্পনা পছন্দ করেছেন। তবে তিনি এও বলেন যে, জেলেনস্কি প্রস্তাবটি এখনও পড়ে দেখেননি বলে তিনি কিছুটা হতাশ।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “জেলেনস্কির দেশের জনগণ শান্তিপ্রস্তাব পছন্দ করেছে। কিন্তু জেলেনস্কি নিজে এটি পছন্দ করেননি।” ট্রাম্পের এই হাতাশা প্রকাশের পরই জেলেনস্কি লন্ডনে ইউরোপের নেতাদের কাছে যান।
বৈশ্বিক নীতির ক্ষেত্রে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র যে আর একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে না, সেটিই প্রতীয়মান হয়েছে জেলেনস্কিকে নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আর জেলেনস্কির পাশে দাঁড়ানো নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের বার্তায়।
জেলেনস্কি অবশ্য বলেছেন, যুদ্ধ শেষের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইউক্রেইনের মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি।
তিনি বলেন,“কিছু জিনিস আছে যেটি আমরা আমেরিকানদেরকে ছাড়া সামাল দিতে পারব না। আবার কিছু জিনিস আছে যেটি ইউরোপকে ছাড়া সামাল দেওয়া যাবে না। সেকারণে আমাদের প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া।”