Published : 22 Jun 2026, 04:29 PM
কাতারের প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কারখানায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫৪ জন আহত এবং আরও ১৮ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সোমবার জানিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাস লাফান শিল্প নাগরীতে এই ‘অভ্যন্তরীণ বিস্ফোরণের’ পর নিখোঁজদের সন্ধানে ‘কাতারি ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ গ্রুপ’কে উদ্ধার অভিযানে মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’র কারণে বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হলেও আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তবে এর আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সিভিল ডিফেন্স দল প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, স্থাপনাটি থেকে কোনো গ্যাস বা রাসায়নিক লিক হয়নি যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। এই শিল্প নগরীর দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, বারজান কারখানায় বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয় এবং তারা কারখানার আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) উত্তরে অবস্থিত রাস লাফান শিল্প নগরী বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ উৎপাদন করে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এই শিল্প কেন্দ্রটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে এর আগে মার্চ মাসে কাতার সরকার জানিয়েছিল।
ওই হামলার পর কাতারএনার্জি তার আন্তর্জাতিক সরবরাহ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেতে কিছু চুক্তিতে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ (অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে চুক্তি পালনে সাময়িক অব্যাহতি) ধারা কার্যকর করে।
এর ফলে সে সময় ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের ক্রেতারা বড় ধরনের সরবরাহ সংকটে পড়েছিল।