১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারের জবাবদিহি থাকবে এমন দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিরোধী দলের সহযোগিতা কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jul 2026, 10:02 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

রাষ্ট্র ও সরকারের জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে এমন বাংলোদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের এই অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করি, সম্মান করি। জনগণের জীবন এবং সম্পদের সুরক্ষা পবিত্র আমানত বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

“আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে রাষ্ট্র এবং সরকার হবে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক। অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সর্বোপরি নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময়।”

বর্তমান সরকার কোনোভাবেই চরমপন্থা বা উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সরকারি দল এবং বিরোধী দল এই সংসদে কোনো কোনো বিষয়ে হয়ত দ্বিমত করেছি। কিন্তু অনেক বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, উগ্রবাদ এবং চরমপন্থাকে বর্তমান সরকার প্রশ্রয় দেবে না। এ ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণভাবে বিরোধী দলের সহযোগিতা পাব ইনশাআল্লাহ।” 

এর আগে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৫টায় এই অধিবেশন শুরু হয়।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সারা বিশ্বে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, তবে অবশ্যই শত্রুতা নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “প্রতিহিংসা প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরাণতা; যা বিরোধীদলীয় নেতা জোর দিয়েছেন আমিও একইসঙ্গে তার উপরে জোর দিতে চাইছি। 

“এই বাংলাদেশে আর যাতে কখনো ফ্যাসিবাদ স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর যাতে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে; এই প্রশ্নে বিরোধী দল এবং সরকারি দল দৃঢ়ভাবে আমরা বিশ্বাস করতে চাই। আমাদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় ঐক্য। যে কোনো মূল্যে এই জাতীয় অটুট এবং বজায় থাকবে ইনশাআল্লাহ।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার দুর্নীতির বর্ণনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “দুর্নীতিকে টুঁটি চেপে হোক বা যে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।” 

দুর্নীতি দমন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষা সরকারের অগ্রধিকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। খেটে খাওয়া মানুষের অন্যতম চাওয়া, একটি নিরাপদ পরিবেশ। অর্থাৎ একজন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী যেমনই হোক, প্রত্যেকটি মানুষ চায় দিনশেষে কাজ শেষ করে যখন বাড়িতে ফিরে যাবে, তখন সে যাতে নিরাপদে যাতে যেতে পারে। যখন পরিবার নিয়ে কোথাও বেড়াতে হয়, সে যাতে নিরাপদে যেতে পারে আবার নিরাপদে তার বাসস্থানে ফিরে আসতে পারে। 

“জনগণের এই নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেটিরই অংশ হিসেবে আমরা ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।”

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে নির্বাচিত জাতীয় সংসদে বহু বছর পরে জনগণের সত্যিকার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আলোচনা করে একটি বাজেট পাস করেছে। আমরা বলতে পারি, এই বাজেট জনগণের জন্য জীবনবান্ধব। বাজেট নিয়ে যে সব সংগঠন বিভিন্ন সময় চুলচেরা বিশ্লেষণ করে, আল্লার রহমতে তারাও বলেছে, এই বাজেট অনেকটাই জনবান্ধব। এই বাজেটের সুফল যদি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমি সরকারি প্রশাসন কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করি।”

বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, বেকারদের কর্মসংস্থান, জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করা, কৃষি খাত, স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

জনগণের জন্য যে সুবিধামূলক কার্ড প্রচলন করা হচ্ছে, সেগুলোকে একটি ইউনিভার্সাল কার্ডে রূপান্তরীত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন সরকার প্রধান।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারের যে মূল কয়টি পরিকল্পনা, তার অন্যতমই হচ্ছে ঋণনির্ভর থেকে অর্থনীতিকে আমরা বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত করব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি হবে আমাদের প্রধান চালিকাশক্তি। সে কারণেই বর্তমান সরকার সব পরিকল্পনা এমনভাবে তৈরি করেছে, যাতে ২০৩৪ সালের মধ্যে আমরা ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কাছাকাছি চলে যেতে পারি।”

বর্তমানে পুরো বিশ্ব একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির ভিতর দিয়ে যাচ্ছে এবং এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অপরিসীম মন্তব্য করে তারেক রহমান দাবি করেন, “এমন পরিস্থিতিতেও অর্থনৈতিকভাবে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনাগুলোকে ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করব। 

“সারা দেশ ঘুরে আমি মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের মধ্যে আমি যে উৎসাহ, উদ্দীপনা, আগুন, উদ্যম দেখেছি, একজন নাগরিক হিসেবে আমি কনফিডেন্ট। সেই কনফিডেন্ট বলেই আজকে আমার সেই বিষয়টি আমি এই সংসদের সঙ্গে শেয়ার করলাম।” 

এ সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা যারা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এর প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর আমাদের সরকার বাস্তবায়ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

বক্তব্যের শেষে বাজেট অধিবেশনের সঙ্গে জড়িত সংসদ সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এক মাসের বেতনের সমপরিমান অর্থ দিতে ডেপুটি স্পিকারের প্রতি অনুরোধ করেন সংসদ নেতা।

গত ৭ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছিল। আইন প্রণয়ন কার্যালবলী শেষ করে আসরের নামাজের বিরতির পরে সংসদ অধিবেশন সমাপ্তির জন্য রাষ্ট্রপতির আদেশ আসার কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।

এরপর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্য দেন।