Published : 09 May 2023, 12:16 AM
ভারতের মণিপুর রাজ্যে গত সপ্তাহে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।
ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের পাহারা দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে বলে সোমবার জানান কর্মকর্তারা।
মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্য মণিপুরে গত সপ্তাহে প্রায় ৩০টি উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে উপজাতি নয়, কিন্তু ওই এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইটি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়।
মণিপুরে বাসিন্দাদের প্রায় অর্ধেক মেইটি সম্প্রদায়ের। সেখানে চারদিকে পাহাড়ি এলাকায় বাস করে অনেক উপজাতির লোকজন। ওই এলাকার প্রায় ৪০ শতাংশ আদিবাসী।
মেইটিরা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার পরেও অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই তারা দীর্ঘদিন ধরেই তাদেরকে উপজাতির তালিকাভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে।
মূলত মেইটি সম্প্রদায়কে উপজাতির মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখতে হাইকোর্ট মণিপুর সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার পর রাজ্যে সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
রাজ্যে উপজাতিদের জন্য নির্ধারিত কিছু আর্থিক সুবিধা ও সংরক্ষিত কোটা রয়েছে। তাই উপজাতির মর্যাদা পাওয়া গোষ্ঠিগুলো চায় না মেইটিরা তাদের সেই সুবিধায় ভাগ বসাক।
মণিপুর থেকে ভারতীয় পার্লামেন্টের সদস্য লোরহো এস. ফোজে বলেন, ‘‘যেহেতু বিবাদমান পক্ষগুলোর নেতারা আজ (সোমবার) শান্তি আলোচনায় বসেছেন, তাই আমরা গ্রামবাসীদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছি।
‘‘পরিস্থিতি এখনো খুবই উদ্বেগজনক এবং ক্ষতিগ্রস্তরা নিজ গ্রামে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় পুনরায় দাঙ্গা শুরু হয়ে যেতে পারে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘ সীমান্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান শেষ হওয়ার পর বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
তবে সংঘাতময় এলাকায় জারি করা সকাল-সন্ধ্যা কারফিউ এ সপ্তাহজুড়েই থাকবে বলেও জানান তিনি।
মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাহাড় এবং উপত্যকার কিছু অংশে যে লড়াই হয়েছিল তাতে ৬২ জন নিহত হয়েছেন। তবে সপ্তাহান্তে সেখানে কোনো সংঘাত হয়নি।
পুলিশ ৬২ জন নিহত হওয়ার কথা জানালেও মণিপুরের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তিনজন নেতা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ জন। চারটি জেলায় অস্ত্রধারীরা দোকান ও বাড়ি ঘরে হামলা চালালে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।