Published : 22 Feb 2026, 05:54 PM
তেহরানকে পরমাণু চুক্তিতে বাধ্য করতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ওয়াশিংটনের বিশাল যুদ্ধবহর হাজির হওয়ার পরও ইরান এখনও কেন আত্মসমর্পণ করছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সে প্রশ্ন তুলছেন বলে জানিয়েছেন তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
সামরিক সংঘাত এড়াতে কয়েকদিন আগেই সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ওমানের মধ্যস্থতায় এক বৈঠকে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সে বৈঠকে ‘খানিকটা অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দুই পক্ষের আলোচকরা আভাসও দিয়েছেন। তার মধ্যেও ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালানোর হুমকি জারি রেখেছে, মধ্যপ্রাচ্যে জড়ো করেছে দুটি বিমানবাহী রণতরী, অসংখ্য যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ।
তার মধ্যেই শনিবার ফক্স নিউজে ট্রাম্পের পুত্রবধু লারাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেছেন, চুক্তি করতে ব্যর্থ হলে মারাত্মক পরিণত ভোগ করতে হবে এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ইরানের অবস্থান নিয়ে প্রেসিডেন্ট বেশ ‘আগ্রহী’।
“আমি ‘হতাশ’ শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না, কারণ তিনি বোঝেন যে তার হাতে অসংখ্য বিকল্প আছে। কিন্তু তারা কেন, আমি ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না, কেন তারা আত্মসমর্পণ করেনি সেটা জানতে বেশ আগ্রহী,” উইটকফ এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ডন।
মার্কিন এ বিশেষ দূত আরও বলেন, “কেন, এই চাপের মধ্যে, যেখানে বিপুল সামুদ্রিক ও নৌশক্তি সেখানে জড়ো হয়েছে, কেন তারা আমাদের কাছে এসে বলছে না, ‘আমরা কথা দিচ্ছি আমরা অস্ত্র চাই না, সে কারণে এটা এটা করতে আমরা প্রস্তুত’? তবে তাদেরকে সে অবস্থায় নিয়ে যাওয়াটা বেশ কঠিন।”
সাক্ষাৎকারে উইটকফ ইরানের সর্বশেষ শাহ-র নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথাও স্বীকার করেন। ইরানের এখনকার শাসকদের কড়া সমালোচক রেজা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আগে থেকেই দেশের বাইরে।
“প্রেসিডেন্টের নির্দেশে আমি তার সঙ্গে দেখা করেছি। আমার মনে হয় নিজের দেশের ব্যাপারে তিনি বেশ দৃঢ়, দেশের কথা ভাবেনও। কিন্তু এটা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির ওপর নির্ভর করছে,” বলেছেন উইটকফ।
JUST IN 🚨 🇺🇸🇮🇷
Steve Witkoff on Iran:
“Trump is curious why they haven’t capitulated under this pressure and sea power, and said, ‘We don’t want a weapon. Here’s what we’ll do.’”#Witkoff #Trump #Iran #NuclearTalks pic.twitter.com/AUuDKUoZXY
— Global Flash Alert (@GlobalFlashHQ) February 22, 2026
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা পাহলভি গত সপ্তাহে মিউনিখে এক সমাবেশে বলেছেন, তিনি ইরানকে ‘সেক্যুলার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে’ নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তির খসড়া আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রস্তুত হবে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের ‘আত্মসমর্পণ’ নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ সংক্রান্ত উইটকফের মন্তব্যটি এল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, পরমাণু চুক্তিতে রাজি হতে ইরানের হাতে বড়জোর ১৫ দিনের মতো সময় আছে।
জেনিভায় দুই দেশের আলোচনা চলাকালে মঙ্গলবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছিলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টায় ট্রাম্প সফল হতে পারবেন না।
ওয়াশিংটন ও এর পশ্চিমা মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টার অভিযোগ আনলেও তেহরান তা অস্বীকার করে বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান তাদের ওপর থাকা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক গণমাধ্যম। এ নিষেধাজ্ঞার কারণেই দেশটির অর্থনীতি কয়েক দশক ধরে বাজে সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে দেশটি ডিসেম্বরে সরকারবিরোধী বড় বিক্ষোভও দেখেছে।