Published : 26 Feb 2026, 04:07 PM
যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো শহরের জেল থেকে মার্কিন সীমান্তরক্ষা বাহিনীর হেফাজতে ছেড়ে দেওয়ার পর কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ প্রায় অন্ধ এক শরণার্থীর মৃতদেহ শহরটির এক রাস্তায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিউ ইয়র্ক রাজ্যের প্রান্তে অবস্থিত শহরটির পুলিশ কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৫৬ বছর বয়সী নুরুল আমিন শাহ আলমের লাশ খুঁজে পান বলে বুধবার জানান বাফেলো পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র।
মিয়ানমার থেকে যাওয়া শাহ আলম গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মার্কিন সীমান্তরক্ষা বাহিনী বর্ডার পেট্রলের এজেন্টরা তাকে তার বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরের একটি কফি শপে নামিয়ে দেয়।
তার মৃত্যুর কারণ তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে, বলেছেন বাফেলো পুলিশের মুখপাত্র।
শহরটির ডেমোক্র্যাট মেয়র শন রায়ান বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্তের ফলেই শাহ আলমের মৃত্যু হয়েছে, যা চাইলেই এড়ানো যেত।
“দুর্বল এক মানুষ, যিনি চোখে প্রায় দেখেনই না, ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না, তাকে কনকনে ঠাণ্ডা রাতে একা ছেড়ে যাওয়া হল; বিপদহীন, নিরাপদ কোথাও তাকে রাখার চেষ্টা হয়েছে এমনটা জানা যায়নি। মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থার (সিবিপি) ওই সিদ্ধান্ত ছিল অপেশাদার ও অমানবিক,” বলেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রয়টার্স সিবিপির মুখপাত্রের মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি।
তবে বাফেলোভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনভেস্টিগেটিভ পোস্টকে সিবিপি-র এক মুখপাত্র বলেছেন, শাহ আলম যে শরণার্থী এবং তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগ নেই এটা নিশ্চিত হওয়ার পর এজেন্টরা শাহ আলমকে একটা কফি শপে ছেড়ে আসেন।
“বর্ডার পেট্রল এজেন্টরা তাকে কোথাও নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, ওই প্রস্তাব তিনি সাদরে গ্রহণ করেন। সরাসরি বর্ডার পেট্রল স্টেশন থেকে ছেড়ে না দিয়ে, তার সর্বশেষ জানা ঠিকানার কাছে উষ্ণ ও নিরাপদ স্থান বলে বিবেচিত একটি কফি শপে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় তার মধ্যে কোনো ধরনের অস্বস্তি, চলাফেরাজনিত সমস্যা বা বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন প্রতিবন্ধকতার লক্ষণ দেখা যায়নি,” বলেছে সংস্থাটি।
কানাডা সীমান্তের কাছে অবস্থিত বাফেলো শহরে গত সপ্তাহের শেষদিকে রাতের তাপমাত্রা প্রায়ই শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে ছিল।
এরি কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় বলছে, দুই পুলিশ সামান্য আহত হন এমন এক ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বছর শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দোষ স্বীকার করে নেওয়ার এক চুক্তিতে রাজি হওয়ার পর চলতি মাসেই তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
শাহ আলমকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) কাউন্টি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক এক আবেদন পাঠায়, যাতে ছাড়া পাওয়ার পরপরই ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন ওই ব্যক্তিকে’ তাদের হেফাজতে তুলে দিতে অনুরোধ করা হয়।
সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে শাহ আলম জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর এরি কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় মার্কিন বর্ডার পেট্রলের সঙ্গে যোগাযোগ করে, বলেছেন কার্যালয়টির এক মুখপাত্র।
শাহ আলমের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল এক লিখিত বার্তায় জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিজনিত এক ঘটনার পর তার বাবাকে গত বছর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার হওয়ার দিন ইংরেজিতে কথাবার্তা বলতে না পারা শাহ আলম হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তিনি পর্দা লাগানোর একটি রডকে হাঁটার লাঠি হিসেবে ব্যবহার করতেন, বলেন ফয়সাল।
পথ ভুলে যাওয়ায় তিনি বাফেলোর এক বাসিন্দার বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়লে ওই বাসিন্দা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে রডটি হাত থেকে ফেলতে বললেও ইংরেজি না জানা শাহ আলম ওই নির্দেশ বোঝেননি, পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, ভাষ্য তার ছেলের।
“গত সপ্তাহে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর কেউ আমাকে, আমার পরিবারের সদস্যদের বা আইনজীবীকে বলেনি তাকে কোথায় ছেড়ে আসা হয়েছে,” বলেন ফয়সাল।
তিনি জানান, শাহ আলম পড়তে, লিখতে বা ফোনের মতো ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারতেন না। তিনি কেবল ‘বাড়ির রান্না করা খাবার খেতে’ ও ‘পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে একত্রিত’ হতে চেয়েছিলেন।
এ পরিবারের সব সদস্যই আরাকান (এখনকার নাম রাখাইন) থেকে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী, বলেছেন ফয়সাল।