Published : 03 Apr 2026, 07:04 PM
ইরান তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ এলাকায় চীন নির্মিত একটি ‘উইং লুং-২’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এই ঘটনার পর গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়েছে কি না।
ভূপাতিত ড্রোনের ছবিগুলো প্রথম প্রকাশ করে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম। তারা প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল, ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
তবে একাধিক ওপেন সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষক ধ্বংসাবশেষ দেখে সেটিকে চীনের তৈরি উইং লুং-২ ড্রোন হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
যদিও ‘মিডল ইস্ট আই’ (এমইই) পত্রিকা এই বিশ্লেষণের সত্যতা নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করতে পারেনি, তবে পরবর্তীতে তেহরান টাইমস-ও একই তথ্য জানায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বা ইসরায়েল কেউই এই উইং লুং-২ ড্রোন ব্যবহার করে না। অন্যদিকে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক ভাণ্ডারে এই ড্রোন রয়েছে।
ড্রোনটি যদি সত্যিই সৌদি আরব বা আমিরাতের হয়ে থাকে, তবে তা হবে ইরান যুদ্ধে তাদের জড়িয়ে পড়ার একটি বড় সংকেত।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সহায়তার জন্য প্রবল চাপ দিচ্ছে।
এর আগে জানা গিয়েছিল, সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা এবং কিং ফাহাদ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছে।
তবে দেশটি এখন পর্যন্ত যুদ্ধে সরাসরি জড়ানো এড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে চেষ্টা করছে।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচিত তাকে “তোষামোদ করা”।
রিয়াদে নিযুক্ত একজন পশ্চিমা কূটনীতিক জানান, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে সৌদি আরব অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে।
সৌদি আরবের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।
দেশটি ইতিমধ্যে জাতিসংঘে লবিং শুরু করেছে যাতে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার অনুমোদন পাওয়া যায়।