Published : 13 Feb 2026, 03:39 PM
বৈশ্বিক উষ্ণতায় ভূমিকা রাখা গ্রিনহাউজ গ্যাস নিয়ন্ত্রণে যে নীতিগত সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সব ধরনের আইন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতো, বারাক ওবামা আমলের সেই ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
২০০৯ সালের ওই নীতিগত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, গ্রিনহাউজ গ্যাস জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
যুক্তরাষ্ট্রে যানবাহনের বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ কমাতে এটিই ছিল এতদিন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান আইনি হাতিয়ার, বলছে বিবিসি।
সেই নীতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেছেন, ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ ছিল ওবামা আমলের একটি ‘সর্বনাশা’ নীতি, যা আমেরিকার গাড়ি শিল্পের ক্ষতি করেছে এবং গাড়ি কিনতে ক্রেতাদের খরচ বাড়িয়েছে।
তিনি এ নীতিকে ‘গ্রিন নিউ স্ক্যাম’-এর আইনি ভিত্তি হিসেবেও অভিহিত করেন।
হোয়াইট হাউস বলছে, এই ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ বাতিলের ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি প্রতি উৎপাদন খরচ গড়ে ২ হাজার ৪০০ ডলার কমবে এবং জ্বালানি ও পরিবহন খাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় হবে।
তবে পরিবেশবাদীরা এই ভাষ্যকে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের পিটার জালজাল বলছেন, “খরচ তো কমবেই না, উল্টো মার্কিনিদের বেশি খরচ করতে বাধ্য করবে। কম দক্ষতাসম্পন্ন এবং বেশি দূষণকারী যান চালাতে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করতে হবে। এ নীতি বদলের স্বাস্থ্যগত প্রভাবও আমরা খতিয়ে দেখেছি, তাতে দেখা যাচ্ছে নতুন এ সিদ্ধান্তে ফলে ৫৮ হাজার অতিরিক্ত অকাল মৃত্যু এবং ৩ কোটি ৭০ লাখ বাড়তি অ্যাজমা অ্যাটাকের ঝুঁকিও তৈরি হবে।”
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা উত্তরসূরীর এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকানরা আরও অনিরাপদ ও অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা হারাবে।
তিনি মনে করেন, জীবাশ্ম-জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মুনাফা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে গাড়িনির্মাণ শিল্পের অনেকের আশঙ্কা, কম জ্বালানি-সাশ্রয়ী গাড়ি বানালে বিদেশের বাজারেও তাদের বিক্রি কমে যেতে পারে।
জলবায়ু আইন বিশেষজ্ঞ মাইকেল জেরার্ডও বলছেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি শেষ পর্যন্ত আমেরিকান গাড়ি নির্মাতাদের সংকটে ফেলবে, কারণ অন্য কেউ তখন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি কিনতে চাইবে না।”
পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেরাও এই লড়াই সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যেতে চায়। তাদের ধারণা, যদি তারা সুপ্রিম কোর্টে জিতে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার নতুন আইন ছাড়া এই নিয়ম সহজে পাল্টাতে পারবে না।