Published : 29 May 2026, 12:10 PM
যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অস্বাভাবিকভাবে রাশিয়ার কঠোর সমালোচনা করে দেশটিকে কিইভের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিশ্রুত ‘পদ্ধতিগত হামলা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু মস্কো এ আবেদন উপেক্ষা করে বিদেশি কূটনীতিকদের ইউক্রেইনের রাজধানী ছাড়ার জন্য ফের সতর্ক করেছে।
ইউক্রেইনের অনুরোধে বৃহস্পতিবার আয়োজিত নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এসব ঘটনা ঘটেছে।
রয়টার্স জানায়, রোববার কিইভ ও নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া, এর প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের এই অধিবেশনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল ইউক্রেইন।
এই হামলায় রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক ব্যবহার করেছে। ২০২৪ এর নভেম্বর থেকে এ পযন্ত এই নিয়ে অন্তত তৃতীয়বারের মতো রাশিয়া এ ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করল।
এই হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস রাশিয়ার ওরেশনিক ব্যবহারকে ‘এক অনির্বচনীয়, বিপজ্জনক ও বর্বর উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে অভিহিত করেছেন।
ব্রুস বলেন, “কিইভের বিরুদ্ধে তথাকথিত পদ্ধতিগত হামলা না চালানোর বিষয়ে রাশিয়াকে সতর্ক করছি আমরা। এতে আরও বেসামরিক হতাহত হওয়ার ঝুঁকি আছে আর এটি শান্তির সম্ভাবনাকে পেছনে ঠেলে দেবে।”
রাশিয়া জানিয়েছে, দোনেৎস্কর একটি ছাত্রাবাসে ইউক্রেইনের চালানো হামলার জাবাবে কিইভে ওই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
ব্রুসের এসব মন্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের দিক থেকে রাশিয়ার সবচেয়ে কঠোর সমালোচনাগুলোর অন্যতম। ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের তুলনায় রাশিয়া প্রতি নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করে থাকে।
তবে রাশিয়া যদি ‘পদ্ধতিগত হামলার’ হুমকি বাস্তবায়ন করে তবে যুক্তরাষ্ট্র তাতে কী প্রতিক্রিয়া জানাবে তা পরিষ্কার করেননি ব্রুস।
অপরদিকে মস্কোর রোববারের আক্রমণে ইউক্রেইনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া ফের দাবি করেছেন। তিনি আরও জানান, এরপর রাশিয়া ইউক্রেইনের ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলো ও কমান্ড পোস্টগুলোতে’ আঘাত হানাবে।
নেবেনজিয়া বলেন, “যেহেতু এসব স্থাপনাগুলো কিইভে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাই আমরা কূটনৈতিক মিশনগুলোর ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীদেরসহ বিদেশি নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব কিইভ ছেড়ে যাওয়ার জন্য সতর্ক করছি।”
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেছেন, কিইভের লক্ষ্যস্থলগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিশ্রুত ‘ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগত হামলার’ হুমকিতে জাতিসংঘ ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।