Published : 27 Feb 2026, 07:30 PM
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি হামলার পরিস্থিতিতে উভয় দেশকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি মধ্যস্থতারও প্রস্তাব এসেছে তাদের পক্ষ থেকে।
আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া শহরে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে দেশটি।
তার আগে ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী লক্ষ্য করে বড় পরিসরে আক্রমণ চালানোর কথা বলেছেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ওই আক্রমণের কথা বলছে তালেবান সরকার।
সংঘাতের এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ। উভয় দেশকে শান্তিপূর্ণ পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জাতিসংঘ
আল জাজিরা লিখেছে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকের এক বিবৃতিতে গুতেরেস উভয় দেশকেই আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাত চলাকালে উভয় পক্ষকেই বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

ইরান
সংলাপ ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের মাধ্যমে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ঘোচানোর আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সংঘাত নিরসনে দুই দেশকে রোজার মাসে আত্মসংযম ও ইসলামি সংহতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার এক্স পোস্টে তিনি বলেন, গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করা ও কাবুল-ইসলামাবাদের সহযোগিতা উন্নয়নে কোনো সহযোগিতা লাগলে তা দিতে ইরান প্রস্তুত।
রাশিয়া
সীমান্তে জরুরি ভিত্তিতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।
কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দুই দেশের দূরত্ব ঘোচানো ও সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সম্মত হলে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্ততারও প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেইনের সঙ্গে যুদ্ধরত রাশিয়া।
ভারত
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্সে বলেন, এই হামলা রোজার মাসে চালানো হয়েছে। এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে ভিন্ন খাতে চালানোর আরেকটি চেষ্টা।
সম্প্রতি তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে ভারত। ইসলামাবাদের অভিযোগ, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে আফগানিস্তান ও খোদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করছে ভারত। যদিও ভারত এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
তুরস্ক
আলজাজিরা লিখেছে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তুরস্কের একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, তুরস্কের শীর্ষ কূটনীতিক হাকান ফিদান পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাতার ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কাতার
কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলআজিজ আল-খুলাইফি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে ফোনালাপ করেছেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলেছে, উভয় পক্ষ উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যাতে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার পাকিস্তান-আফগানিস্তাননের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা করছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।
যুক্তরাজ্য
ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার এক্সে এক পোস্টে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা উভয় পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে, বেসামরিক নাগরিকদের আরো ক্ষতি এড়াতে এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানাই।”
পাকিস্তান
‘সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘অস্থিতিশীলতার’ জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করছে পাকিস্তান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ইসলামাবাদ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
এক্সে তিনি বলেন, “পাকিস্তান ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে। যখন আগ্রাসনের মাধ্যমে পাকিস্তানকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন আল্লাহর রহমতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জোরালো জবাব দিচ্ছে।”
আফগানিস্তান
পাকিস্তানের হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা বলছে আফগানিস্তান সরকার।
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে পূর্ণ ঐক্যের সঙ্গে প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা করা হবে। সাহসের সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।
এক্সে তিনি বলেন, পাকিস্তান সহিংসতা ও বোমাবর্ষণ থেকে মুক্ত হতে পারবে না, যে সমস্যা তারা নিজেরাই তৈরি করেছে। পাকিস্তানের উচিত নিজেদের নীতি পরিবর্তন করা। আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, সম্মান ও সভ্য সম্পর্কের পথ বেছে নেওয়া।”