Published : 07 Jun 2025, 01:49 PM
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে কেন্দ্রস্থল স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দিনভর অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান চালায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তখন নগরীর বিভিন্ন অংশ থেকে বহু মানুষকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয় তারা।
রয়টার্সের লাইভ ভিডিওতে দেখা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা লাঠি হাতে ও কাঁদুনে গ্যাসের রাইফেল বলে মনে হওয়া অস্ত্র হাতে নগরীর কেন্দ্রস্থলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। রাত নেমে আসার পর কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষের প্রথমদিকে কিছু প্রতিবাদকারী পুলিশের দিকে ক্রংক্রিটের ভাঙা অংশ ছুড়ে মারে। এর জবাবে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করে। ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা পরিষ্কার হয়নি।

লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র ড্রেক ম্যাডিসন রয়টার্সকে জানান, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সমাবেশটিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিল, এর অর্থ হচ্ছে যারা ওই এলাকা ছেড়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছিল তাদের গ্রেপ্তার।
ওইদিন এর আগে টেলিভিশনের খবরে দেখানো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, চিহ্নিত নয় এমন সামরিক ধাঁচের যানবাহনের বহর ভর্তি সাদা পোশাকের ফেডারেল এজেন্টরা ইমিগ্রেশন ইনফোর্সমেন্টের অভিযানের অংশ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তা দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন।
মার্কিন ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এজেন্টরা লস অ্যাঞ্জলেসের বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায়। এগুলোর মধ্যে ওয়েটলেক এলাকার একটি হোম ডিপোসহ ফ্যাশন ডিস্ট্রিক্টের এক পোশাকের দোকান এবং দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি কাপড়ের গুদাম উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এসব অভিযান চলাকালে বহু মানুষকে আটক করে হেফাজতে নেয় আইসিই। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বহু শহরে এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।
রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট রেকর্ড সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ আইসিইর অভিযানে অংশ নেয়নি। অভিযানের পর বহু মানুষ জড়ো হয়ে আইসিইবিরোধী প্রতিবাদ শুরু করে। তারা এক ফেডারেল আদালত ভবনের দেয়ালে স্প্রে করে আইসিইবিরোধী শ্লোগান লেখে এবং নিকটবর্তী একটি কারাগারের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সম্ভাব্য অস্থিরতা দমন করতে এ সময় নগরজুড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস এক বিবৃতিতে তার নগরীতে আইসিই এর অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন।