Published : 21 Sep 2025, 02:15 PM
কোভিড-১৯ এর শুরুর দিকে মহামারীর কেন্দ্রের প্রথম দিককার পরিস্থিতি তুলে ধরার পর চার বছর জেল খাটা চীনা এক সাংবাদিক একই ধরনের অভিযোগে আবারও চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)।
‘বিবাদ উসকে দেওয়া ও অশান্তি সৃষ্টির’ অভিযোগে ৪২ বছর বয়সী ঝ্যাং ঝানকে শুক্রবার নতুন এ সাজা দেওয়া হয়। চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানে করোনাভাইরাসের শুরুর দিকের বিস্তার নিয়ে চাক্ষুস অভিজ্ঞতা অনলাইনে পোস্ট করার পরও একই অভিযোগে ২০২০ সালে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠী আরএসএফ শনিবার এসব বলেছে।
এ প্রসঙ্গে রোববার তাৎক্ষণিকভাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিচারে চীনা এ নাগরিক-সাংবাদিকের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো আইনজীবী ছিল কিনা তাও নিশ্চিত হতে পারেনি তারা।
“কারাগারের নির্মম পরিবেশে আটকে রাখা নয়, তাকে ‘ইনফরমেশন হিরো’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে গর্বভরে তুলে ধরা উচিত। যে কষ্ট ও নির্যাতনের মধ্যে তিনি আছেন, তা শেষ হওয়া উচিত। তাকে শিগগির মুক্তি দিতে বেইজিংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের চাপ এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি,” বিবৃতিতে বলেছেন আরএসএফের এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার আলেকসান্দ্রা বিয়েলাকোভস্কা।
বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে ভিড়ঠাসা হাসপাতাল, শুনশান সড়কসহ উহানের দুর্গতির চিত্র তুলে ধরার কয়েক মাস পর ঝ্যাং প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। উহান নিয়ে সরকারি ভাষ্যের চেয়েও পরিস্থিতি যে বেশি খারাপ তা তার ওই পোস্টগুলোতে উঠে এসেছিল।
গ্রেপ্তারের পর তার তখনকার আইনজীবী রেন কুয়ানিউ বলেছিলেন, “বাক স্বাধীনতা চর্চা করার কারণে নির্যাতিত হচ্ছেন বলেই ঝ্যাং মনে করছেন।”
গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর এ নারী কারাগারে অনশন শুরু করেন বলে রয়টার্সের দেখা আদালতের নথিতে জানা যায়।
অনশনের কারণে পুলিশ বাধ্য হয়ে হাত বেঁধে টিউবের মাধ্যমে তাকে জোর করে খাওয়ানো শুরু করে বলে সেসময় তার আইনজীবী জানিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের মে মাসে মুক্তি পাওয়ার তিন মাসের মাথায় ফের আটক হন ঝ্যাং, পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সাংহাইয়ের পুদং ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়, বলছে আরএসএফ।
চীনের মানবাধিকার লংঘন নিয়ে ঝ্যাংয়ের প্রতিবেদনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবারের এ দণ্ড বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম নিয়ে কাজ করা এ গোষ্ঠীটি।
ঝ্যাংয়ের আগের আইনজীবী রেন এক্সে বলেছেন, নতুন অভিযোগগুলো আনা হয়েছে বিদেশি ওয়েবসাইটগুলোতে ঝ্যাংয়ের করা মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে, এজন্য তাকে দোষী মনে করা উচিত নয়।
কোন কোন কাজের জন্য ঝ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে, তা কখনোই প্রকাশ্যে খোলাসা করেনি চীনের কর্তৃপক্ষ।
“এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ভিত্তিহীন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হলেন ঝ্যাং ঝান, যা সাংবাদিকতায় করায় নির্মম নির্যাতন ছাড়া আর কিছুই নয়। চীনের কর্তৃপক্ষের উচিত তাকে নির্বিচারে আটকে রাখায় ইতি টানা, সব অভিযোগ তুলে নেওয়া ও শিগগির মুক্তি দেওয়া,” বলেছেন নিউইয়র্কভিত্তিক কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের এশিয়া-প্যাসিফিক পরিচালক বে লি ই।
সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় কারাগার চীনে এখনও অন্তত ১২৪ জন গণমাধ্যমকর্মী বন্দি আছেন বলে জানিয়েছে আরএসএফ।
পশ্চিমা এ গোষ্ঠীটির ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে চলতি বছর ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে চীনের স্থান হয়েছে ১৭৮ নম্বরে।
ঝ্যাং ঝানের সাম্প্রতিক দণ্ডাদেশের এক সপ্তাহ আগে, সাধারণ মানুষ জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি তথ্য দেওয়ার পর প্রয়োজনে সরকারি পর্যায়ক্রমিক কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে যেন দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানো যায় তা নিশ্চিতে চীনের শীর্ষ আইনপ্রণেতারা একটি বিল পাস করেছেন।