Published : 22 Jun 2025, 11:31 AM
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের আঘাত হানার পর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শহর নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসির কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
শনিবার রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানে এ হামলায় অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান। ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় পাঁচ থেকে ছয়টি বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আর নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন ডুবোজাহাজগুলো থেকে ৩০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
হামলার পর হোয়াইট হাউজ থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধ করার স্থাপনাগুলো ‘পুরোপুরি বিলুপ্ত’ হয়ে গেছে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও অন্যতম প্রধান শহর নিউ ইয়র্কের কূটনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) বলে, “ইরানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ব্যাপক সতর্কতার অংশ হিসেবে আমরা নিউ ইয়র্ক শহরজুড়ে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে আমরা অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করছি আর আমাদের ফেডারেল অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছি। নিউ ইয়র্ক শহরে যে কোনো সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবো আমরা।”
এর কিছুক্ষণ পর ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ (এমপিডি) সামাজিক মাধ্যমে একই ধরনের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে এমপিডি বলে, “মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ ইরানের ঘটনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বাসিন্দাদের, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় আসা দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় সাহায্র্য করার জন্য তথ্য ভাগাভাগি করতে ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে আমরা আমাদের স্থানীয়, অঙ্গরাজ্যের ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী অংশীদারদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করছি।”
এমপিডি জানিয়েছে, ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার প্রতি জানা কোনো হুমকি নেই, তারপরও তারা শহরজুড়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের উপস্থিতি বাড়াবে।
ফক্স নিউজের সাবেক সংবাদাতা ও এনওয়াইপিডির পরিদর্শক পল মাউরো নিউ ইয়র্কের সন্ত্রাসী সেলগুলোর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন।
তিনি জানিয়েছেন, শহরের যেসব এলাকার সঙ্গে ইসরায়েলি সংযোগ আছে সেখানে টহল গাড়ি দিয়ে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছেন তারা। এর পাশাপাশি শহরে বেশ কয়েকটি শিয়া মসজিদ আছে আর ইরান শিয়া প্রধান দেশ হওয়ায় যে কোনো সময় যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। তাই এসব এলাকার ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে ও টহল জোরদার করা হচ্ছে।
তারা অনলাইন চ্যাটগুলোর ওপরও নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
পাল্টা হামলার চেষ্টা হলে আরও অনেক বেশি শক্তির মুখোমুখি হবে ইরান: ট্রাম্প