Published : 26 Oct 2025, 03:09 PM
অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস (আসিয়ান) এর ১১তম সদস্য দেশ হিসেবে অভিষেক হয়েছে এশিয়ার নবীন দেশ পূর্ব তিমুরের।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দেশটি তিমুর-লেসতে নামেও পরিচিত। ১৪ হাজার ৯৫০ বর্গকিলোমিটারের এই ক্ষুদ্র দেশটির জনসংখ্যা ১৪ লাখ। এটি এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২০০২ সালে স্বাধীন হওয়া এই দেশটির অর্থনীতির আকার প্রায় ২০০ কোটি ডলার। আসিয়ান ভুক্ত অন্য দেশগুলোর মোট জিডিপি ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারের, যার তুলনায় পুর্ব তিমুরের অর্থনীতির পরিমাণ ক্ষুদ্র একটি ভগ্নাংশ। তবে নবীন এ অর্থনীতি আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে গতিশীল হয়ে ওঠার আশা করছে।
১৪ বছর অপেক্ষার পর আসিয়ানে যোগদান করতে সক্ষম হল পূর্ব তিমুর। এই সদস্যপদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে পূর্ব তিমুরে ব্যাপক ও গভীর কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে না। কিন্তু এই যোগদান দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক প্রেসিডেন্ট হোজে রামোস হোর্তা এবং প্রধানমন্ত্রী জানানা গুজমাওয়ের জন্য এক প্রতীকি বিজয়।
রোববার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আসিয়ানের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন হয়েছে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই আসিয়ানের নেতারা পূর্ব তিমুরকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করে নেন। পূর্ব তিমুরের জাতীয় পতাকা সম্মেলন মঞ্চে স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা ব্যাপক করতালির মাধ্যমে দেশটির আসিয়ানে যোগাদানকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে আবেগ আক্রান্ত গুজমাও বলেন, এটি তার দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই নতুন পথচলা তার দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগে ক্ষেত্রে ‘বিপুল সুযোগ’ বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পূর্ব তিমুর প্রায় তিনশ বছর পর্তুগালের শাসনাধীনে ছিল। ১৯৭৫ সালে হঠাৎ করেই তারা এ উপনিবেশ ছেড়ে যায়। এরপর প্রতিবেশী বৃহৎ দেশ ইন্দোনেশিয়া পূর্ব তিমুর দখল করে নেয়। দীর্ঘ দিন ধরে সংগ্রাম করার পর ২০০২ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৯৬ সালে রামোস হোর্তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত এশিয়ার একমাত্র এই দেশটির অধিকাংশ বাসিন্দা খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী।