১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ১৪

সমুদ্রপথে সরবরাহ করা বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, বন্দর আব্বাসের অবস্থান এখানেই।

ইরানের বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণে নিহত ১, আহত ১৪
হরমুজ প্রণালী উপকূলে ইরানের বন্দর আব্বাসের স্যাটেলাইট ছবি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jan 2026, 09:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:50 PM

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর বন্দর আব্বাসে এক বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তা ইরানি বার্তা সংস্থাগুলোকে জানিয়েছেন। তবে কী কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে তা জানা যায়নি। 

দেশটির আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, শনিবারের এই বিস্ফোরণে রেভুল্যুশনারি গার্ডের এক নেভি কমান্ডারকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছিল বলে সামাজিক মাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে কিন্তু তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।  

ইরানি গণমাধ্যম জানায়, বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিন্তু তারা বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তারা। 

রাষ্ট্রায়ত্ত তেহরান টাইমস জানিয়েছে, পৃথক আরেক ঘটনায় ইরাকের সীমান্তবর্তী আহভাজ শহরে গ্যাস বিস্ফোরণে চারজন নিহত হয়েছেন।  

দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শনিবার বন্দর আব্বাসে ঘটা বিস্ফোরণের সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত নয়। 

এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।  

বন্দর আব্বাসের অবস্থান ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালীতে। সমুদ্রপথে সরবরাহ করা বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীটি হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ তিন বছরের মধ্যে ফের দেশটিকে নাড়িয়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দমন করেছে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এসব নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের এ ঘটনাটি ঘটল। 

ইরানের অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে ডিসেম্বরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির শাসকরা কঠিনতম এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন।   

শেষ পর্যন্ত এ বিক্ষোভ দমন করা গেলেও এ প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০০ সদস্যসহ অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।  

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের দিকে বিশাল একটি মার্কিন নৌবহর (আর্মাদা) এগিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার অনেকগুলো সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে লক্ষ্যস্থল করার পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে আর কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় তা যাচাই করে দেখছিলেন।  

শনিবার ভোররাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় নেতারা ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে অস্থিরতা উস্কে দিচ্ছে ও ‘জাতিকে ছিন্নভিন্ন করার’ লক্ষ্যে উপকরণ সরবরাহ করছে।