Published : 18 Apr 2026, 06:35 PM
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলে ইরান ফের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর একাধিক নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথটি পার হওয়ার চেষ্টাকালে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ হয়েছে বলে খবর দিয়েছে।
শনিবার অন্তত দুটি বাণিজ্যিক নৌযান এ গুলির খবর দিয়েছে বলে সমুদ্র নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও (ইউকেএমটিও) একটি ট্যাংকারে ইরানি গানবোট থেকে হামলার খবর দিয়েছে।
এর আগে সমুদ্রে যান চলাচলের ওপর নজর রাখা সংস্থাগুলোর তথ্যে আটটি ট্যাংকারের একটি বহর হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছিল বলে দেখা যায়। সাত সপ্তাহ আগে ইরানে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করার পর একসঙ্গে এত নৌযানের ওই জলপথ পাড়ির চেষ্টার খবর আর পাওয়া যায়নি।
কিন্তু এর পরপরই ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখায় তারা বিশ্ববাণিজ্যের ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফের কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
ইরানলাগোয়া সঙ্কীর্ণ ওই জলপথ দিয়েই যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল-গ্যাসের এক পঞ্চমাংশ গন্তব্যে যেত।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক কড়া বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মুজতাবা খামেনি বলেন, “শত্রুকে নতুন তিক্ত পরাজয়ের স্বাদ দিতে ইরানের নৌবাহিনী প্রস্তুত।”
অথচ কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে ‘বেশ কিছু ভালো খবর’ আছে বলে জানিয়েছিলেন। তিনি অবশ্য এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুক্রবার ইরানকে সতর্কও করেছেন। বলেছেন, বুধবারের মধ্যে চুক্তি না হলে ফের যুদ্ধ বাধতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বুধবারই শেষ হওয়ার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পর ইরান সাময়িক সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলার ঘোষণা দিয়েছিল।
কিন্তু শনিবারই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন ও অবরোধের আড়ালে ‘দস্যুতা’কে কারণ দেখিয়ে জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচলের ভার ফের ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কমান্ডের মুখপাত্র জানান, আলোচনার ধারাবাহিকতায় ‘সদিচ্ছার ভিত্তিতে’ ইরান সীমিত সংখ্যক তেলের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক নৌযানের পার হওয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথে নৌচলাচলে ফের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপে তেহরানকে বাধ্য করেছে।
এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।