Published : 15 Dec 2025, 11:50 PM
অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনির জনপ্রিয় বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় দুই আততায়ী বাবা ও ছেলের জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে যোগ ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে।
তাদের গাড়িতেও আইএস-এর পতাকা মিলেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। স্থানীয় গণমাধ্যমে এক আততায়ী ৫০ বছর বয়সী বাবার নাম সাজিদ আকরাম এবং তার ২৪ বছর বয়সী ছেলের নাম নাবিদ আকরাম বলা হয়েছে।
ইহুদিদের হানুক্কা অনুষ্ঠান চলাকালে রোববার এই দুইজনের এলোপাতাড়ি গুলিতেই অন্তত ১৫ জন নিহত হয়। ৫০ বছর বয়সী বাবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন, তাকে নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়ায় ১৬ জনে। আর তার ছেলে গুরুতর আহত হয়ে সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।
পুলিশ বলছে, ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রথম অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দাদের নজরে এসেছিলেন নাবিদ। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সোমবার বলেছেন, নাবিদের থেকে কোনও ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সে সময় কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি-র খবরে বলা হয়েছে, নাবিদের জন্ম অস্ট্রেলিয়াতেই। জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)- এর সিডনি শাখার সঙ্গে নবিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের ধারণা, নাবিদ ও তার বাবা সাজিদ দুইজনই আইএস এর আনুগত্য স্বীকার করেছিলেন। সাজিদ আকরাম ১৯৯৮ সালে শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যান।
পরে সেটি পার্টনার ভিসায় রূপান্তর করা হয় এবং তারপর তা রেসিডেন্ট রিটার্ন ভিসা হয়। সাজিদের শিকার করার জন্য অগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। তিনি একটি বন্দুক ক্লাবের সদস্যও ছিলেন।
হামলায় বাবা ও ছেলে কী ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে আসা ভিডিওগুলোর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাকারীরা একটি বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল ও শটগান ব্যবহার করেছে বলে মনে হয়েছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, ইহুদিবিদ্বেষ থেকে এই হামলা চালিয়েছে দুই বন্দুকধারী। তারা আবার সম্পর্কে ছেলে-বাবা হওয়ায় পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে ইহুদি বিদ্বেষ ছিল বলে মনে করছে পুলিশ।
এই ঘটনার পেছনে আইএস-এর কতটা হাত আছে তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সমুদ্রসৈকতে গণহত্যার মাধ্যমে আততায়ীরা ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলকে বার্তা দিতে চেয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি-বিরোধী কার্যকলাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় ইহুদিদের হুমকি দিয়ে পোস্টার, দেওয়াল লিখন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
জানুয়ারিতে সিএনএন সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছিল, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, মেলবোর্নে ইহুদিরা হামলার শিকার হতে পারে। রোববার বন্ডাই সৈকতে হানুক্কাহ উৎসবে সমবেত হওয়া ইহুদিরাই হামলার নিশানা হয়।
গত দুবছরে গাজা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে ইহুদি বিদ্বেষ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।
তাছড়া, গত সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে অনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা-সহ আরওকিছু দেশ। সেই তালিকায় নাম ছিল অস্ট্রেলিয়ারও।
অস্ট্রেলিয়ার এই স্বীকৃতির কারণেই ইহুদিরা এভাবে হামলার শিকার হল বলে অভিযোগ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর।
তবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির সঙ্গে বন্ডাই সৈকতে হামলার কোনও যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার।