Published : 23 Dec 2025, 06:34 PM
চীন তাদের সর্বশেষ তিনটি সাইলো ক্ষেত্রে (সংরক্ষণাগার) ১০০টির বেশি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের একটি খসড়া প্রতিবেদনে এ ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে।
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় তাদের অনাগ্রহের বিষয়টি উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে।
শিকাগোভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস’বলছে, অন্য যেকোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তুলনায় চীন তাদের অস্ত্রের মজুদ দ্রুতগতিতে সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করছে।
তবে বেইজিং সামরিক শক্তি বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘চীনকে কলঙ্কিত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
পেন্টাগনের ওই খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষত মঙ্গোলিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত সাইলো সাইটগুলোতে চীন সম্ভবত ১০০টির বেশি সলিড-ফুয়েলযুক্ত ডিএফ-৩১ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) মোতায়েন করেছে।
পেন্টাগন এর আগে এই সাইলো ক্ষেত্রগুলোর অস্তিত্বের কথা জানালেও সেখানে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য দেয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেড মজুদের পরিমাণ ছিল ৬০০-এর কোঠায়। তবে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।
উল্লেখ্য, চীন দাবি করে আসছে যে তারা একটি ‘আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক কৌশল’ বজায় রাখে এবং ‘আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার’ নীতিতে অটল রয়েছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারেন।
কিন্তু পেন্টাগনের খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন এ ধরনের উদ্যোগে আগ্রহী বলে কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনাতেও তাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে চীনের নতুন করে মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। প্রতিবেদনটি আইনপ্রণেতাদের কাছে যাওয়ার আগে এটি পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পারমাণবিক অস্ত্র সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির হাতে এক হাজারের বেশি ওয়ারহেড থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে তাইওয়ান নিয়ে সতর্ক করে বলা হয়, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চীন তাইওয়ানে যুদ্ধ করার এবং তাতে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। বেইজিং তাইওয়ান দখলের জন্য ‘পাশবিক শক্তি’ ব্যবহারের বিকল্পগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করছে।
এর মধ্যে চীন থেকে ১,৫০০-২,০০০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এটিই দুই দেশের মধ্যকার শেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রের দৌড় শুরু হতে পারে।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের প্রভাব পড়েছে দেশটির সামরিক বাহিনীর ওপরও।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৮ মাসে অন্তত ২৬ জন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অস্ত্র কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপকদের তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে অথবা অপসারণ করা হয়েছে।
এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে গত বছর চীনের সামরিক কোম্পানিগুলোর আয় কমেছে এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের গতি ধীর হয়ে পড়েছে।
তবে পেন্টাগন মনে করে, স্বল্প মেয়াদে এটি পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেললেও দীর্ঘ মেয়াদে তা সামরিক বাহিনীর উন্নতির পথ প্রশস্ত করতে পারে।