Published : 14 Oct 2025, 09:01 PM
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস যোদ্ধারা সেখানে আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে প্রকাশ্যেই অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে তারা।
সোমবার দিনশেষে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় হামাস ৭ জনকে একদল লোকের মধ্যে টেনে নিয়ে এসে তাদেরকে হাঁটুমোড়া করে বসিয়ে পেছন থেকে গুলি করে। ভিডিও’র সত্যতা নিশ্চিত করেছে হামাস।
গাজার অধিবাসীরা বলেছে, মঙ্গলবার তারা হামাস যোদ্ধাদের সংখ্যা বাড়তে দেখেছে। ত্রাণ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় রুট বরাবরও তারা অবস্থান নিয়েছে।
ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্প্রতি কয়েক দিনে হামাস যোদ্ধা ও প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র দলের লড়াইয়ে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এর আওতায় গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার হলেও পূর্ব গাজা সিটিতে মানুষজন ধ্বংসস্তুপে বাড়িঘরের খোঁজ করতে যাওয়ার সময় ড্রোন হামলায় ৫ জন নিহত হয়েছে।
ওদিকে, খান ইউনিসের কাছেও বিমান হামলায় একজন নিহত এবং অন্যান্যরা আহত হয়েছে। হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।
তবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা তাদের দিকে এগিয়ে আসতে থাকা সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে হুমকি দূর করতে গুলি চালিয়েছে।
গত জানুয়ারি ও মার্চে যুদ্ধবিরতির সময় হামাস যোদ্ধারা রাস্তায় দেখা যওয়ার পর ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি পরিহার কিরেছিল এবং যুদ্ধ শেষের আলোচনাও প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরই বলে আসছেন, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া এবং গাজার দখল না ছাড়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হতে পারে না।
তবে নেতানিয়াহুর এই দাবি হামাস প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। আর এর কারণে আগের সব শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে।
তবে ট্রাম্প এবার গাজা যুদ্ধের শেষ ঘোষণা করেছেন। সোমবার তিনি বলেন, হামাসের এখনও শৃঙ্খলা রক্ষা করে চলার অস্থায়ী একটি সবুজ সংকেত আছে।
ওদিকে, হামাসের কয়েক সূত্র রয়টার্সকে বলেছেন, গাজায় শৃঙ্খলার আর কোনও লঙ্ঘন গোষ্ঠীটি মেনে নেবেনা এবং ইসরায়েলের সহযোগীদের, সশন্ত্র লুটেরা এবং মাদক কারবারীদেরকে তারা নিশানা করবে।
দুই বছরের ইসরায়েলি হামলায় হামাস অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়লেও গোষ্ঠীটি গাজায় আবার অবশিষ্ট যোদ্ধাদের নিয়ে ধীরে ধীরে অবস্থান শক্ত করছে।
তাদের এই অবস্থান পুনরুদ্ধারই বলে দিচ্ছে যে, গাজার ক্ষমতা ধরে রাখার সক্ষমতা হামাস এখনও হারায়নি। আর কেবল যোদ্ধাই নয় বিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজে শত শত কর্মীও নিয়োগ করেছে গোষ্ঠী।
হামাস জানিয়েছে, তারা এখন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের পাশাপাশি নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে।