Published : 24 Dec 2025, 02:56 PM
যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘যতোট সম্ভব’ সম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তা প্রয়োগ করবে।
এ নিয়ে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলো এর পরবর্তী শিকার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পর প্রশাসন কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার উপকূলের অদূরে ক্যারিবীয় সাগরে ও লাতিন আমেরিকার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানরত সন্দেহভাজন নৌযানগুলোতে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থল হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, “এই গোলার্ধের জন্য, আমাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুতর একক হুমকি হল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলো।”
রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে আর ট্রাম্প মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সব জাহাজ অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত মার্কিন কোস্টগার্ড ক্যারিবীয় সাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। এই দুটি ট্যাঙ্কারেই ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ভরা ছিল।

এরপর মার্কিন কোস্টগার্ড ওপেকভুক্ত দেশ ভেনেজুয়েলার বন্দরের দিকে এগোতে থাকা তৃতীয় একটি জাহাজকে ধাওয়া করে, যেটি খালি ছিল।
ওয়াল্টজ বলেছেন, “পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল ট্যাঙ্কারগুলো মাদুরো ও তার অবৈধ শাসনের জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত এই ট্যাঙ্কারগুলো মাদক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কার্টেল দে লোস সোলেসের তহবিলও যোগায়।”
ওয়াশিংটন কার্টেল দে লোস সোলেস বা কার্টেল অব দ্য সানকে গত মাসে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক আমদানি করে বলে অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের। মাদুরো এই গোষ্ঠীটি পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ করেছে তারা।
ভেনেজুয়েলা মার্কিন প্রশাসনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ‘অস্তিত্বই নেই’ এমন একটি গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাটিকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছে।

নিরাপত্তা পরিষদকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, “দৃশ্যমান হতে থাকা এই হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের একটি নমুনা হয়ে উঠতে পারে।”
তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কৌশলগত নথি থেকে উদ্ধৃত করে এ মন্তব্য করেন। ওইসব নথিতে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধে আবার তাদের আধিপত্য কয়েম করবে।
ওয়াল্টজ নেবেনজিয়ার পরে কথা বললেও তিনি তার (নেবেনজিয়ার) মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
নিরাপত্তা পরিষদে চীনের উপরাষ্ট্রদূত সুন লেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘অবিলম্বে তাদের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ করতে ও উত্তেজনা আর না বাড়ানোর’ আহ্বান জানান।
ভেনেজুয়েলার অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রাশিয়া ও চীন সমর্থনে এতে সমর্থন জানায়। উত্তেজনা বাড়ার মুখে এটি নিরাপত্তা পরিষদে এ ধরনের দ্বিতীয় বৈঠক।
বৈঠকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মোনকাদা বলেন, “এটি চূড়ান্তভাবে পরিষ্কার হয়ে যাক যে ক্যারিবীয়াতে কোনো যুদ্ধ নেই, সেখানে আন্তর্জাতিক কোনো সশস্ত্র সংঘাত নেই, স্থানীয় কোনো সংঘাতও নেই; এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের যুদ্ধের নিয়ম প্রয়োগ করে তার কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা অযৌক্তিক।
“হুমকি ভেনেজুয়েলা না, হুমকি যুক্তরাষ্ট্র সরকার।”