Published : 26 Mar 2026, 09:43 PM
পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফকে ‘হত্যা তালিকা’ (হিটলিস্ট) থেকে বাদ দিয়েছে ইসরায়েল।
আলোচনার বিষয়ে অবগত পাকিস্তানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “ইসরায়েল ওই দুই নেতার অবস্থান শনাক্ত করেছিল এবং তাদেরকে মারতে চেয়েছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি, যদি তাদেরও মেরে ফেলা হয়, তবে কথা বলার মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এরপর যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে হত্যা না করার জন্য ইসরায়েলকে বলে।”
তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম খবরটি প্রকাশ করেছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছিল, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে এই দুই নেতাকে সাময়িকভাবে ৪ থেকে ৫ দিনের জন্য হত্যা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি। চলমান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষ করে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- উভয় পক্ষের সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে। যদি কোনও শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তবে বৈঠকস্থল ইসলামাবাদ হতে পরে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, তারা ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছেন। পরে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন।
প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করে দেখছে ইরান। প্রস্তাবের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলা এবং সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক ছায়াগোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরান শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলছেন, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখলেও যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা তাদের নেই।