Published : 11 Jan 2026, 02:37 PM
ইরানে কয়েক বছরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক বিক্ষোভ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার মধ্যে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে ইসরায়েল।
এ বিষয়ে ধারণা আছে এমন তিনজন ইসরায়েলি সূত্র রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছেন।
ইরানে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকাররবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী। শনিবার এক বিবৃতিতে তারা নিরাপত্তাকে 'রেড লাইন' বা সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সামরিক বাহিনী সরকারি সম্পদ ও জননিরাপত্তা রক্ষার অঙ্গীকার করেছে।
গত কয়েকদিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত আছে।”
রয়টার্স জানায়, তাদের সূত্রগুলো শনিবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু দেশটির উচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার অর্থ কী তা বিস্তারিতভাবে জানাননি।
জুনে ইসরায়েল ও ইরান ১২ দিন ধরে চলা এক যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এই লড়াইয়ে ইসরায়েলের পক্ষ হয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলি একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, শনিবার এক ফোন কলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ইরানে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মার্কিন এক কর্মকর্তাও নেতানিয়াহু ও রুবিওর মধ্যে কথা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তা জানাননি।
ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও সেখানে হস্তক্ষেপ করার কোনো আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়নি ইসরায়েল। যদিও ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান যদি ইসরায়েলে আক্রমণ করে তবে দেশটিতে মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে। চলমান প্রতিবাদের প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, “আমার মনে হয়, বাকি সবকিছুর সঙ্গে আমাদের দেখা উচিত ইরানের ভেতরে কী ঘটছে।”
আরও পড়ুন:
দমনপীড়নের মুখেও ইরানে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ