Published : 11 Apr 2026, 12:57 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তান যাওয়ার ফ্লাইটে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদল তাদের সঙ্গে করে রক্তমাখা স্কুল ব্যাগ, জুতা, সাদা ফুল ও মিনাবে নিহত শিশুদের ছবি নিয়ে গেছে।
ইসলামাবাদগামী তাদের ফ্লাইটে যাত্রীদের প্রথম সারিতেই যুদ্ধের এই স্মৃতিচিহ্নগুলো স্থান পেয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সাধারণ মানুষের প্রাণহানির এক মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরেছে, বলছে এনডিটিভি।
ফ্লাইটের একেবারে প্রথম সারিতে থাকা ওই স্মৃতিচিহ্নগুলোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে কালিবাফ লিখেছেন, “ফ্লাইট মিনাব ১৬৮-তে আমার সঙ্গীরা।”
এক্সে দেওয়া ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কালিবাফ মিনাবে হামলা নিহত শিশুদের ছবি ও তাদের জিনিসপত্রের দিকে তাকিয়ে আছেন।
ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রথম দিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত স্কুল শিশুদের স্মরণে পাকিস্তানে আলোচনায় যাওয়া ইরানের প্রতিনিধি দলের নামও রাখা হয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরান দূতাবাস পরে কাফিবাফের পোস্টটি শেয়ার দিয়ে লিখেছে, “আমরা কখনোই মিনাবের শিশুদের ভুলবো না। কখনোই না।”
همراهان من در این پرواز#Minab168 pic.twitter.com/xvXmDlSDiF
— محمدباقر قالیباف | MB Ghalibaf (@mb_ghalibaf) April 10, 2026
কী ঘটেছিল মিনাবে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালায়, তারই এক পর্যায়ে এক স্কুলে তাদের হামলায় দেড় শতাধিক শিশু নিহতের খবর মেলে।
প্রথমে একাধিক ইরানি গণমাধ্যম ও পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানায়, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে শাজারেহ তাইয়িবে স্কুলে হামলার সময় ভেতরে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অবস্থান করছিলেন।
ওই হামলার কয়েকদিন পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি আকাশ থেকে গণকবর খোঁড়ার এক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেন। নিহত শিশুদের জন্য ওই কবরগুলো খোঁড়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দিকে তোপ দেগে স্কুলে হামলাকে ‘ঠাণ্ডা মাথায় খুন’ আখ্যা দেন।
“ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়টি ছিল ইরানের দক্ষিণে। প্রকাশ্য দিবালোকে সেখানে বোমা মারা হয়েছে, তখন সেখানে ছোট ছোট বাচ্চারা ছিল। কেবল এখানেই ডজন ডজন নিষ্পাপ শিশু খুন হয়েছে। ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে এই অপরাধের জবাব দেওয়া হবেই,” বলেছিলেন আরাকচি।
যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকবারই মিনাবে স্কুলে হামলার দায় অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প একবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমরা মনে করছি, এটা (হামলা) ইরান করেছে। কারণ তাদের অস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালাতে পারে না, যেটা আপনারা জানেন। তারা নির্ভুল হামলা চালাতে পারে না।”
তবে পরে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী নিশানা ঠিক করতে ভুল করায় তাদের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রটি ওই শিশুদের স্কুলে গিয়ে পড়ে।
এই ধ্বংসযজ্ঞ যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রে হয়েছে সেটিও অনেক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে। যুদ্ধে জড়িত তিন পক্ষের মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই এ ক্ষেপণাস্ত্র আছে।