১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাপের মুখেও পদত্যাগ করছেন না স্টারমার, লড়াইয়ের অঙ্গীকার

নিজের সরকারকে একটি ‘১০ বছরের প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

চাপের মুখেও পদত্যাগ করছেন না স্টারমার, লড়াইয়ের অঙ্গীকার
কিয়ার স্টারমার। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 May 2026, 11:25 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর দলীয় এমপি’দের কাছ থেকে পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠলেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনই ক্ষমতা ছাড়ছেন না। 

নিজের সরকারকে একটি ‘১০ বছরের প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে স্টারমারের লেবার পার্টি গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

বিপরীতে জনতুষ্টিবাদী ডানপন্থি ‘রিফর্ম ইউকে’ পার্টি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এই ভরাডুবির পর লেবার পার্টির ভেতরেই স্টারমারকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন:

স্টারমার সরকারের সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মন্ত্রিসভা যদি সোমবারের মধ্যে স্টারমারকে সরানোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন নিয়ে সরাসরি নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়বেন। 

দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ জন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে স্টারমারের নেতৃত্বের বিরোধিতা করেছেন।

তবে রোববার ‘দ্য অবজার্ভার’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, “আমি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যে কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলাম, তা ফেলে মাঝপথে চলে যাব না। আমি দেশকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে দেব না।”

দেশে অনুষ্ঠেয় ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেবেন কিনা এবং দ্বিতীয় আরেক মেয়াদ পূরণ করবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, “হ্যাঁ, আমি তাই করব।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করার কারণে স্টারমার এক দশক প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন।

স্টারমার যদি এখন পদত্যাগ করেন বা তাকে সরানো হয়, তবে গত এক দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দেখবে।

স্থানীয় নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন স্কাই নিউজকে বলেন, “আমরা ভোটারদের কাছ থেকে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছি, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। 

তবে কিয়ার স্টারমার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।” তিনি জানান, স্টারমার সোমবার এক ভাষণে ব্রিটেনের জন্য নতুন এক কর্মপরিকল্পনা বা ‘ফ্রেশ ডিরেকশন’ তুলে ধরবেন।

অন্যদিকে, লেবার পার্টির বামপন্থি অংশ ক্যাথরিন ওয়েস্টের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। জন ম্যাকডোনেল ও ইয়ান বার্নের মতো প্রবীণ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনতে গেলে তা দলের ভেতরে নতুন কোন্দল তৈরি করতে পারে।

ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামকে স্টারমারের সম্ভাব্য বিকল্প মনে করা হলেও তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য না হওয়ায় আইনি জটিলতা রয়েছে।

স্টারমারকে ২০২৯ সালের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ডাকতে হবে। তিনি যদি পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেন এবং দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হন, তবে মার্গারেট থ্যাচার ও টনি ব্লেয়ারের পর তিনি হবেন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা যুক্তরাজ্যের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।

তবে আপাতত সোমবারের ভাষণ এবং দলের ভেতরের বিদ্রোহ দমন করাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।