Published : 16 Feb 2026, 05:41 PM
পূর্ব তিমুরের কূটনৈতিক মিশনের প্রধানকে বহিষ্কার করে তাকে ৭ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে মিয়ানমার।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে সোমবার এমনটাই জানিয়েছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
গত মাসে একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে পূর্ব তিমুরে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করে; যা নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সোমবার নেপিদো এ পদক্ষেপ নিল, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশটি বেশ কিছুদিন জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ দেখেছে, এরপর শুরু হয় দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধ।
মিয়ানমারের চিন রাজ্যের মানবাধিকার সংগঠন (সিএইচআরও) গত মাসে তিমুর লেস্তের (পূর্ব তিমুরের আনুষ্ঠানিক নাম) বিচার বিভাগের কাছে যে অভিযোগ করে তাতে বলা হয়, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকেই জান্তা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে।
জানুয়ারিতে সিএইচআরও কর্মকর্তারা পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তার সঙ্গে দেখাও করেন। রামোসের হাত ধরেই গত বছর ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব তিমুর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্য হয়। মিয়ানমারও আসিয়ানের সদস্য।
সিএইচআরও-র নির্বাহী পরিচালক সালাই জা উক বলছেন, তারা এমন একটি আসিয়ান সদস্য দেশ খুঁজছিলেন যাদের স্বাধীন বিচার বিভাগ রয়েছে, পাশাপাশি যারা চিন রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর ভোগান্তিকে সহানুভূতির চোখে দেখবে, সব বিবেচনায় পূর্ব তিমুরকেই অভিযোগ দায়েরের জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছে তাদের।
“আসিয়ানের এক সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আরেক আসিয়ান সদস্য দেশের বিরোধিতাকারী একটি অবৈধ সংগঠনের সঙ্গে এ ধরনের অগঠনমূলক সম্পৃক্ততা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য,” মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে বলেছে রাষ্ট্র-পরিচালিত গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার।
এ প্রসঙ্গে রয়টার্স জান্তার মুখপাত্রের মন্তব্য চেয়ে ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে সিএইচআরও জানায়, তাদের অভিযোগের পর পূর্ব তিমুরের বিচার বিভাগ জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংসহ মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মিয়ানমার-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মামলাটি গ্রহণ করে এবং এর তদন্তে একজন কৌঁসুলিকে নিয়োগ দিয়ে পূর্ব তিমুর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা নেতিবাচক ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে এবং জনঅসন্তোষও বাড়িয়ে তুলেছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে ইমেইলে করা অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি মিয়ানমারে অবস্থিত পূর্ব তিমুরের দূতাবাস।
সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগে যখন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক নজরদারির মুখে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে মামলা চলছে, তখন পূর্ব তিমুরের সঙ্গে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিল।
মিয়ানমার অবশ্য শুরু থেকেই রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।