Published : 06 Mar 2026, 10:40 AM
ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠালে তাদের মোকাবেলায় তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে।
মার্কিন সেনারা ইরানে ঢোকার ‘দুঃসাহস’ দেখালে তাদের আটক ও হত্যারও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির অনেক কর্মকর্তা ইরানের ভেতর সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার লারিজানি এ কথা বললেন, জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করা এ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সেনা পাঠায় তাহলে তাদের মারাত্মক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
“কিছু মার্কিন কর্মকর্তা বলছেন, তারা ইরানের ভূখণ্ডে ঢুকতে চান মাটিতে কয়েক হাজার সৈন্যসহ। ইমাম খোমেনি ও ইমাম খামেনির বীর সন্তানরা ওই হাজার হাজার সেনাকে ধরে ও হত্যা করে ওই দুর্নীতিগ্রস্ত মার্কিন কর্মকর্তাদের অপদস্থ করতে প্রস্তুত,” ইরানের সাবেক দুই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি ও আলি খামেনিকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন লারিজানি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শনিবারই ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হন। তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা লারিজানিকে ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি মনে করা হয়।
লারিাজানির মতো বৃহস্পতিবার একই কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও। এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসন নিয়ে ইরান ভীত নয়।
“না, উল্টো আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি,” স্থল অভিযান মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘ভয়াবহ দুর্যোগের’ হবে জানিয়ে বলেন আরাগচি।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানে কয়েক হাজার বোমা ফেলেছে। এর পাল্টায় তেহরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মেরে যাচ্ছে।
ট্রাম্প বলছেন, যুদ্ধ তার প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এরই মধ্যে ইরানের আকাশের দখল নিয়ে নিয়েছে এবং তারা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই দেশটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে তেহরানও ছেড়ে কথা বলছে না। তারা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা প্রতিহতের অঙ্গীকার করেছে।
“আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবো না,” দিনকয়েক আগেই লারিজানি এমনটা বলেছিলেন।