১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শান্তি আলোচনায় জে ডি ভ্যান্সকে কেন চেয়েছে ইরান?

ট্রাম্পের ‘ইনার সার্কেলের’ মধ্যে ভ্যান্সকেই সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিরোধী মনে হওয়ায় ইরানের নেতাদের একটি অংশের কাছে তাকেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মুখ মনে হয়েছে।

শান্তি আলোচনায় জে ডি ভ্যান্সকে কেন চেয়েছে ইরান?
পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে মেরিল্যান্ডের মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিড্টে জে ডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Apr 2026, 03:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:23 PM

ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘ইনার সার্কেলের’ মধ্যে একমাত্র ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকেই যুদ্ধে খানিকটা নিমরাজি বলে মনে হয়েছিল। 

ছয় সপ্তাহ পর তিনি নিজেকে দেখছেন ইসলামাবাদে, প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যুদ্ধের ইতি টানার বৈঠকের, যে যুদ্ধ এরই মধ্যে তেলের দাম বাড়িয়েছে, বিশ্বের শেয়ার বাজারগুলোকেও দিয়েছে জোর ধাক্কা। 

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলছে, তেহরানের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে গিয়েই ট্রাম্প প্রশাসন ভ্যান্সের হাতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছে। 

ইরানের নেতাদের একটি অংশের কাছে তাকেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মুখ মনে হয়েছে, এ কারণে তাদের কয়েকজন নীরবে ভাইস প্রেসিডেন্টকেই মার্কিন আলোচক দলে চেয়েছিলেন, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে তাদের প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্পের ‘ইনার সার্কেলের’ মধ্যে ভ্যান্সকেই সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিরোধী মনে হচ্ছে। এ কারণেই তেহরানের বিশ্বাস জন্মেছে যে, ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের মধ্যে তার সঙ্গে আলোচনা করাই সবচেয়ে ভালো হবে। 

সব ঠিক থাকলে শনিবারই ইসলামাবাদে ভ্যান্স ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বসবেন। 

বৈঠকটি হলে তা হবে ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। 

ভ্যান্সের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পজামাতা জ্যারেড কুশনারেরও থাকার কথা রয়েছে। 

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্ক, তাতে তাদের প্রতিনিধিরা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাবেন কিনা তা জানা যায়নি। তবে দুই দেশের নেতারাই সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে চাইবেন, যে ‍উত্তেজনা ও সংঘাত এরই মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। 

মার্কিন প্রতিনিধি দলে ভ্যান্সের উপস্থিতি দলটির ওজন অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় যেমন অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তার থাকবে, থাকবে ছাড় দেওয়ার সুযোগ-সক্ষমতাও। তবে তাকে দলে রাখা হয়েছে শান্তি আনার ক্ষেত্রে ইরান তাকে সম্ভাবনাময় একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখে এ বিবেচনা থেকেই। 

উইটকফ ও কুশনারের ক্ষেত্রে তা বলা যাচ্ছে না। আগের আলোচনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে এরা প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। কিন্তু সেই আলোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে বসে। যে কারণে ইরানি কর্মকর্তারা এ দু’জনকে আগের আলোচনাগুলো ব্যর্থ করে দেওয়ার কারিগর হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা, উইটকফ ও কুশনারই কূটনৈতিক আলোচনার বদলে সামরিক পদক্ষেপ বেছে নিয়েছিলেন।

ভ্যান্সকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি যুদ্ধ লাগানোর চেয়ে তা বন্ধ করতে বেশি আগ্রহী। ইরানি আলোচকদের ধারণা, মার্কিন এ ভাইস প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তার চেয়ে ‘বিবেচক’। কারণ, আগে তিনি যুদ্ধ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এজন্য তিনি চূড়ান্ত কোনো সমাধান বের করতেই চেষ্টা করবেন বলে ইরানিদের ধারণা।

নিজে যে প্রশাসনের অংশ, ভ্যান্স নিয়মিত সেই প্রশাসনেরও সমালোচনা করে আসছেন বলেও জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।  

দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর এক যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের এ আলোচনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। 

যদি এ আলোচনা সফল হয় তাতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে যাবে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রার্থী হওয়ার দৌড়েও তিনি অনেক এগিয়ে যাবেন, বলছেন বিশ্লেষকরা।

একইসঙ্গে যুদ্ধের মুখ হয়ে ওঠারও বিপদ হাতছানি দিচ্ছে তাকে, যে যুদ্ধ এরই মধ্যে কয়েক হাজার বেসামরিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, হাজির করেছে মূল্যস্ফীতি আর গ্যাস-তেলের বাড়তি দাম।