Published : 22 May 2026, 10:36 PM
ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারে যথেষ্ট গোলাবারুদের মজুত নিশ্চিত করতে তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বিশাল অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও সিনেট এক শুনানিতে একথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র জন্য প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ ধরে রাখতেই অস্ত্র বিক্রিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলেই অস্ত্র বিক্রি আবার শুরু হবে।
অবশ্য তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান পরিবর্তনের কোনও তথ্য তারা এখনও পাননি।
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির এই প্যাকেজে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে, যা গত কয়েক মাস ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
সম্প্রতি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই চুক্তিটি চীনের সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষেত্রে একটি ভালো হাতিয়ার হতে পারে।
১৯৮২ সালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেইজিংয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা না করার অঙ্গীকার থাকলেও ট্রাম্প জানান, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এটি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, তিনি অস্ত্র বিক্রি নিয়ে সরাসরি তাইওয়ানের নেতা লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলবেন, যা দীর্ঘদিনের মার্কিন কূটনৈতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থি।
এর আগে গত ডিসেম্বরে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের পর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বেইজিং বলেছিল, এই পদক্ষেপ তাইওয়ান প্রণালিতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।
তবে তাইওয়ানের নেতা লাই চিং-তে জোর দিয়ে বলেছেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।