Published : 08 Mar 2026, 11:51 PM
ইরান যুদ্ধে অসহযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অবনতিশীর সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা নিয়ে রোববার তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
এদিন বিকালে দুই নেতার মধ্যে কথা হয়। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতেই দুইজন ফোনে কথা বলেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে এই ফোনালাপের বিষয়টি জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেতার। ওই অঞ্চলে থাকা ব্রিটিশ ঘাঁটি কী ভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানে হামলা করে। নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার পর থেকে এ অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্য যুদ্ধে যোগ দেয়নি।
স্টারমার প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদেরকে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেননি। পরে ইরানের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে বলে জানান স্টারমার।
তবে তাতে সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। তিনি প্রথমে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অসহযোগিতা নিয়ে স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ইরানে যুদ্ধের জন্য যুক্তরাজ্যের সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প এও বলেছিলেন যে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সম্পর্ক আর আগের মতো নেই।
দুই নেতার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর ট্রাম্প ট্রাথ স্যোশালে বলেন, “আমরা এরই মধ্যে যে যুদ্ধে জিতে গেছি সেখানে আমাদের আর লোকজনকে এই যুদ্ধে জড়ানোর প্রয়োজন নেই।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই দেশের নেতার ফোনে কথা হল।
ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের জন্য ট্রাম্প ও আমেরিকার জনগণকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং দুই নেতাই আবারও শিগগিরই কথা বলার অপেক্ষায় আছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধে সহায়তা না করা নিয়ে নিজ দল এবং বিরোধীদেরও সমালোচনার মুখে ছিলেন।
ডানপন্থি নেতা কেমি বদেনখ ও নাইজেল ফারাজ অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো এক প্রধান নিরাপত্তা সহযোগীকে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়ে স্টারমার ব্রিটিশ স্বার্থের ক্ষতি করেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার একই সুরে কথা বলার পর স্টারমার নিজ দলে আরও চাপের মুখে পড়েন। এরপরই টাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে তার সঙ্গে কথা বললেন স্টারমার।