Published : 24 Feb 2026, 10:23 PM
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন কোহাট শহরে পুলিশের একটি গাড়িতে বন্দুকধারীদের চোরাগোপ্তা হামলায় পুলিশের পাঁচ সদস্য এবং দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে যখন উগ্রপন্থি হামলা বাড়ছে এবং প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটল।
এর মাত্র এক দিন আগে কাছের কারাক শহরে ড্রোন ও বন্দুক হামলায় আধা-সামরিক বাহিনীর (প্যারামিলিটারি) তিন সদস্য নিহত হয়েছিল।
কোহাট পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, “বেশ কয়েকজন বন্দুকধারী পুলিশের একটি টহল দলের ওপর হামলা চালায়। এতে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িটিও পুড়িয়ে দিয়েছে।” তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই দুই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে গত শনিবার আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি ছিল, পাকিস্তানে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য দায়ী উগ্রপন্থিদের আস্তানা লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে কাবুল এবং জাতিসংঘ জানিয়েছে, সেই বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসলামাবাদ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তানে নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে এবং সেখান থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করছে। আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন সমস্যা।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আফগানিস্তানের মাটিতে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো পাকিস্তানের ওই হামলা ছিল একটি সন্ত্রাসী কাজ এবং এটি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।”
আফগান সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) বিভিন্ন ইসলামপন্থি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চারণভূমি হিসেবে পরিচিত, যারা ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।