Published : 04 Jun 2026, 05:09 PM
মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এ নতুন নিয়ম অমান্য করলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ ডলার জরিমানার বিধান রেখেছে দেশটি।
এমন পদক্ষেপের ফলে মালয়েশিয়ায় ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
গেল বছর থেকেই দেশটি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের পরিধি সীমিত করার জন্য কাজ করছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা এমন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে, যা মালয়েশিয়ায় ৮০ লাখ বা তার বেশি ব্যবহারকারী থাকা প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর কার্যকর হবে।
নিষেধাজ্ঞাটি ৬ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ১ জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে, যেখানে মালয়েশিয়া সরকার নতুন এ নিয়ম ভাঙার শাস্তি হিসেবে বড় ঘোষণা দিয়েছে।
সরকারের নিয়ম অমান্যকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে সর্বোচ্চ এক কোটি রিঙ্গিত বা ২৫ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
তুলনা দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে, যেমন এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া অন্যতম বড় কোম্পানি মেটা কেবল ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক বা প্রথম তিন মাসেই ৫ হাজার ৬৩০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করেছে।
নিষেধাজ্ঞাটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার ফলে এখন থেকে মালয়েশিয়ার যে কোনো বাসিন্দা এ নিয়ম বা তালিকার মধ্যে থাকা কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে চান তবে তাকে শিগগিরই প্রমাণ করতে হবে, তার বয়স ১৬ বছরের বেশি।
মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন বলেছে, বয়স যাচাইয়ের এ প্রক্রিয়াটি আগামী ছয় মাসে ধাপে ধাপে চালু হবে।
এ নতুন নিয়মের ফলে ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারলেও সরকার এরইমধ্যে অ্যাকাউন্ট থাকা কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে।
এসব কম বয়সী ব্যবহারকারীর বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি বন্ধ বা সীমিত করার আগে নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য বা ডেটা ডাউনলোড, স্থানান্তর বা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার তাদের এক মাস সময় দিচ্ছে।
মালয়েশিয়ার এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেটা’র মধ্য-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আসিয়ান অঞ্চলের জননীতি পরিচালক ক্লারা কোহ।
তিনি বলেছেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে টিনএজাররা সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করা ছেড়ে ইন্টারনেটের এমন সব অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক গোপন জায়গায় চলে যেতে পারে, যেখানে কোনো নজরদারি থাকে না।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় এ বছরের শুরুতে ইন্দোনেশিয়াও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর একই রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
তবে এর আগে মেটা বলেছিল, ইন্দোনেশিয়ার সেসব নিয়ম কীভাবে মেনে চলতে হবে বা কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে দেশটির সরকারের কাছ থেকে তারা এখনও স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পায়নি।
কেবল এ অঞ্চলেই নয়, বিশ্বজুড়েই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য এসব নিয়ম বাস্তবায়ন এবং তা কার্যকর করা বড় ধরনের বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্বের আরও অনেক দেশই এখন তাদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এ ধরনের বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।