Published : 03 Jun 2026, 09:49 PM
দিল্লির মালবীয় নগরে ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ নামে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
বুধবার সকালে দিল্লির মালবীয় নগরে হুজ রানি এলাকার ওই পাঁচতলা হোটেল ভবনে আগুনে ২১ জন নিহত হন, তাদের মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি নাগরিক।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, নিহত বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, সোমালিয়া, লাইবেরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা রয়েছেন।
তবে কোন দেশের ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন, তা প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ঘটনায় আহত ১৭ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি থাকার কথাও বলা হয়েছে খবরে।
এদিকে বিকালে বিবৃতিতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশি আহত নাগরিককে চিহ্নিত করা গেছে। তিনজন সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতাল এবং বাকি দুজন সফদারজং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
“হাই কমিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগে রয়েছে এবং তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।”
হাই কমিশন বলেছে, “শোকসন্তপ্ত সব পরিবারের প্রতি আমাদের শোক এবং যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের জন্য সহমর্মিতা রইল। আহতদের আশু আরোগ্যের প্রত্যাশা জানাচ্ছে বাংলাদেশ এবং উদ্ধার ও জরুরি সাড়াদান কাজে জড়িতদের অক্লান্ত প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।“
হতাহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম রিপাবলিক এর খবরে বলা হয়, হোটেলটিতে নিহত ও আহত বিদেশিদের অধিকাংশই চিকিৎসার কাজে দিল্লিতে এসেছিলেন।
দিল্লির বাংলাদেশ হাই কমিশনের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় ৫ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন এবং তারা বর্তমানে ম্যাক্স হাসপাতাল ও সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, প্রাথমিক প্রতিবেদনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগেছে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে।
শুরুতে বলা হয়েছিল, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হোটেলের কাছের ‘লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁ’ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে পুলিশ পরে স্পষ্ট করে বলেছে, আগুনটি মূলত হোটেল ভবনের ভেতরেই লেগেছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আগুন নেভানো এবং উদ্ধার অভিযানের সময় প্রায় ১০ জন পুলিশ কর্মীও আহত হন।
তদন্তের বরাতে ডব্লিউআইওএনের খবরে বলা হয়, হোটেলটিতে মাত্র ছয়টি রুমের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তারা প্রায় ২৫টি রুম পরিচালনা করছিল। ফলে অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি এবং নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের গাফিলতির প্রশ্ন উঠেছে।