Published : 03 Jun 2026, 09:59 AM
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ধারাবাহিক কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ‘সফলভাবে প্রতিহত করেছে’ আর ইরানের কেশম দ্বীপে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। কেশম দ্বীপে হামলার জবাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যস্থল করেছিল।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে আঘাত হেনেছে ও ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক আরেকটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, “আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের দিকে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে সবগুলোই তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে।
“কুয়েতের দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হয় অথবা পথেই ভেঙে পড়ে। আর বাইরানের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও বাহরাইনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করেছে।”
কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘শত্রুর’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘আঞ্চলিক জলপথ দিয়ে বৈধভাবে চলাচলরত বেসামরিক নাবিকদের দিকে’ ইরানের পাঠানো তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় কেশম দ্বীপে ‘ইরানি সামরিক বাহিনীর গ্রাউন্ড কন্ট্রেলি স্টেশন’কে লক্ষ্যস্থল করে সেখানে আঘাত হানা হয় বলে জানিয়েছে সেন্টকম। তাদের দাবি, এ পাল্টা-পাল্টি হামলায় কোনো মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়নি।
কেশম দ্বীপের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেহরান পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান এই পথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, কেশম দ্বীপে হামলার জবাবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
আন্তর্জাতিক এক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম আইআরজিসির দাবি প্রত্যাখ্যান করে তা ‘মিথ্যা’ বলে পাল্টা দাবি করেছে। তারা লিখেছে, “মার্কিন বাহিনীর ওপর চালানো ইরানের সব হামলা ব্যর্থ হয়েছে।”
৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করতে দুপক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তা এ পর্যন্ত সফল হয়নি।
সোমবার তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বিস্তৃত হতে থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন করে একটি জাহাজ ইরানের বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন বাহিনী। এতে জাহাজটি অকেজো হয়ে পড়ে। ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানি বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে এ নৌ-অবরোধ শুরু করে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন:
হরমুজের পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে চোখ ইরান ও মিত্রদের ?