Published : 20 Jan 2026, 03:02 PM
অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে ৪৮ ঘণ্টায় চারবার হাঙরের আক্রমণ হওয়ার পর সিডনিসহ ওই উপকূলের কয়েক ডজন সমুদ্র সৈকত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সার্ফার ও সাঁতারুরা এসব আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এবং ভারি বৃষ্টিতে ঘোলা হয়ে যাওয়া পানি প্রাণিগুলোকে তীরের দিকে আরও আকর্ষিত করতে পারে এমন বিবেচনায় মঙ্গলবার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিন সকালে সিডনি থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তরে পোর্ট ম্যাকোয়ারির কাছে পয়েন্ট প্লোমারে এক সার্ফার হাঙরের কামড়ে আহত হন।
৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আগে গত সোম ও রোববার সিডনি ও তার আশপাশে হাঙরের আরও তিনটি আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির ম্যানলি বিচে এক তরুণ সার্ফারকে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে হাঙর।
ম্যাক্স হোয়াইট নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই তরুণের পা থেকে রক্তপাত বন্ধ করতে অন্য এক সার্ফার তার সার্ফবোর্ডের দড়ি দিয়ে সাময়িকভাবে পা বেঁধে দিয়েছিলেন। ওই তরুণ এখন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
একইদিন ডি হোয়াই বিচে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে সার্ফবোর্ড থেকে ফেলে দেয় একটি হাঙর। শিশুটি অক্ষত থাকলেও হাঙরটি তার সার্ফবোর্ডের বড় একটি অংশ কামড়ে ছিঁড়ে নেয়।
এর আগে রোববার বিকেলে সিডনি হারবারে সাঁতার কাটার সময় ১২ বছর বয়সী এক কিশোর হাঙরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীর ঘোলাটে পানি উপকূলে চলে আসায় পানির দৃশ্যমানতা কমে গেছে। এমন ঘোলাটে বা আধা-লোনা পানি ‘বুল শার্ক’ বা ষাঁড়-হাঙরের শিকারের জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ।
সার্ফ লাইফ সেভিং নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধান নির্বাহী স্টিভেন পিয়ার্স সাংবাদিকদের বলেন, “পানির মান এখন এতটাই খারাপ যে তা বুল শার্কের উপস্থিতির জন্য একদম উপযুক্ত। আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, সৈকতগুলো এখন নিরাপদ নয়, তাই সাঁতার কাটতে হলে স্থানীয় সুইমিং পুলে যান।”
হাঙর বিশেষজ্ঞ ক্রিস পেপিন-নেফ জানান, ঘোলাটে পানির কারণে হাঙর সামনে থাকা কোনো বস্তুকে স্পষ্ট দেখতে পায় না। কৌতূহল বা আত্মরক্ষার তাগিদে তারা তখন কামড়ে দেয়। বৃষ্টির কারণে উপকূলের পানিতে আবর্জনা ও খাবারের উৎস বেড়ে যাওয়ায় হাঙররা তীরের কাছাকাছি চলে আসছে।
সিডনির ‘নর্দান বিচ’ এলাকার সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উপকূলজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং হাঙর শনাক্ত করতে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।