Published : 03 Aug 2025, 05:54 PM
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, রাশিয়ার কুরিল দ্বীপপুঞ্জে রোববার ৬ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ৭ মাত্রার ছিল।
প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সিস্টেমের হিসাবেও ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ পাওয়া গেছে। তারা জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
কুরিল দ্বীপপুঞ্জে এই ভূমিকম্প হওয়ার পর রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয় নিকটবর্তী কামচাটকা উপদ্বীপে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল, কিন্তু পরে তা তুলে নেওয়া হয়; জানিয়েছে রয়টার্স।
সতর্কতা জারি করে টেলিগ্রাম অ্যাপে মন্ত্রণালয়টি বলেছিল, সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও লোকজনকে সাগরের তীর থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
রাতে কামচাটকার ক্রশেনিন্নিকভ আগ্নেয়গিরিতে ৬০০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো উদ্গিরণ শুরু হয় বলে রোববার জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত আরআইএ বার্তা সংস্থা এবং বিজ্ঞানীরা।
এই দুটি ঘটনার সঙ্গেই গত সপ্তাহে রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের কামচাটকা উপকূলে হওয়া ৮ দশমিক ৮ মাত্রার অতি শক্তিশালী ভূমিকম্পটির সম্পর্ক থাকতে পারে। ওই ভূমিকম্পের পর ফ্রেঞ্চ পলেনেশিয়া ও চিলিসহ প্রায় পুরো প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলজুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয় আর পরে ক্লুচেভস্কয় আগ্নেয়গিরিতে উদ্গিরণ শুরু হয়। এটি কামচাটকা উপদ্বীপের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ কামচাটকা উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে সামনে বিস্তৃত হয়েছে। রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা বুধবার সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলে শক্তিশালী পরাঘাতের সম্ভাবনা আছে।

আরআইএর দেওয়া উদ্ধৃতিতে কামচাটকা ভলকানিক ইরাপশন রেসপন্স টিমের প্রধান ওলগা গিরিনা বলেন, “৬০০ বছরের মধ্যে ক্রশেনিন্নিকভতে এটিই প্রথম ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত উদ্গিরণ হচ্ছে।”
ইনিস্টিটিউট অব ভলকানোলজি এন্ড সিসমোলজির টেলিগ্রাম চ্যানেলে গিরিনা জানান, ক্রশেনিন্নিকভতে এর আগে শেষবারের মতো নিঃসরণ ঘটেছিল ১৪৬৩ সালের ৪০ বছরের মধ্যে, তারপর থেকে আর কোনো উদ্গিরণের কথা জানা যায়নি।
রাশিয়ার জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয়ের কামচাটকা শাখা জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটির উদ্গিরণের পর ছাইয়ের কুণ্ডুলি ৬০০০ মিটার পর্যন্ত উঠেছে। এই আগ্নেয়গিরিটির উচ্চতা এক হাজার ৮৫৬ মিটার।
টেলিগ্রামে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, “ছাইয়ের মেঘ পূর্বদিকে প্রবাহিত হচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে। এর পথ বরাবর কোনো দূষিত এলাকা নেই।”
এই আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণের কারণে আকাশপথে চলাচলকারী বিমানগুলোর জন্য অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এর অর্থ ওই এলাকায় বিমান চলাচলে উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে, জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।
আরও পড়ুন:
রাশিয়ায় এমন ভয়াবহ ভূমিকম্পেও সুনামির ধাক্কা প্রবল হল না কেন?