Published : 21 Jan 2026, 01:37 PM
ইউরোপে নেটো সামরিক জোটের কয়েকটি প্রধান কমান্ড সেন্টারে মোতায়েন সেনা সংখ্যা হ্রাস করার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন তিনটি সূত্র চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ সামরিক জোটটি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ইউরোপের উদ্বেগ আরও তীব্র করবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নেটো জোটের সামরিক ও গোয়েন্দা বিষয়ক পরিকল্পনা ও সেগুলো তত্ত্বাবধান করার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায় ২০০টি পদ বাদ দেবে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে কথা বলেছে।
তারা আরও জানান, এ পদক্ষেপের কারণে যে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেগুলো হল, যুক্তরাজ্যভিত্তিক নেটো ইন্টেলিজেন্স ফিউশন সেন্টার, ব্রাসেলসের অ্যালাইড স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্সেস কমান্ড ও পর্তুগালভিত্তিক সামুদ্রিক অভিযান দেখভালকারী ‘স্ট্রাইকফরনেটো’। এ তালিকায় নেটোর একই ধরনের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে।
রয়টার্স জানায়, কেন যুক্তরাষ্ট্র নেটোর ভূমিকায় নিয়োজিত এসব কর্মী হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সূত্রগুলো তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেনি। তবে এই পরিবর্তন পশ্চিম গোলার্ধে আরও সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ করা অভিপ্রায়ের সঙ্গে খাপ খায়।
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের যে পরিমাণ সামরিক শক্তি মোতায়েন আছে তার তুলনায় এই পরিবর্তন তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। মহাদেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপকভাবে সরে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিতও এই পরিবর্তন থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।
ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০ হাজার সামরিক সদস্য মোতায়েন আছে, যাদের প্রায় অর্ধেক আছে জার্মানিতে।
কিন্তু ছোট হলেও এই পদক্ষেপগুলো নেটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেড়ে নেওয়ার জন্য প্রচারণা জোরদার করায় ইউরোপে ইতোমধ্যে বেশ চাপে আছে। ট্রাম্পের পদক্ষেপে নেটোর ভেতরেই নজিরবিহীন ভূখণ্ডগত আগ্রাসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে আরেকজন ব্যবহারকারী পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে নেটোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই পোস্টে চীন ও রাশিয়াকে শুধু ‘কাল্পনিক দানব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ইউরোপে মার্কিন সেনা হ্রাসের বিষয়ে করা প্রশ্নে নেটোর এক কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন কর্মী পরিবর্তন অস্বাভাবিক কোনো বিষয় না, এখন ইউরোপের আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে মার্কিন উপস্থিতি বেশি আছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য করা অনুরোধে হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগন সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট।