Published : 05 Oct 2025, 11:01 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শিকাগোয় ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছেন। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে উল্লেখ করে তিনি এই পদক্ষেপ নেন।
শিকাগো রাজ্য কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নেতাদের আপত্তি উপেক্ষা করে ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট শাসিত এই শহরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের মোকাবেলা করার কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টা পর ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
এর আগে স্থানীয় নেতারা কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্পের সেনা মোতায়েন পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন এবং একে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার বলেছেন, ট্রাম্প ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
শিকাগোয় সেনা মোতায়েনের ঘোষণা এমন সময়ে এল যখন ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে এক ফেডারেল বিচারক ২০০ জন সেনা মোতায়েনের ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আপাতত আটকে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাজ্যের সম্মতি ছাড়া ফেডারেল সেনা মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিপন্থি এবং তা রাজ্যের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ। এই ধরনের সেনা মোতায়েন শান্তি আনার বদলে বিক্ষোভ আরো বাড়ায়।
শিকাগোতে সেনা ইতোমধ্যেই মোতায়েন হয়ে গেছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। তবে এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সাধারণত ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট রাজ্যের গভর্নর। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে সেনাবাহিনীকে অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সীমিতভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া আছে।
ট্রাম্প এর আগে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের এমন বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিনেপোলিস এবং পোর্টল্যান্ডে। সর্বশেষ এ তালিকায় যোগ হচ্ছে শিকাগো। এই স্থানগুলোর বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট শাসিত।
শিকাগোতে সম্প্রতি অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ বাড়ছে। বেশিরভাগ বিক্ষোভই সংঘটিত হচ্ছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক দপ্তরের সামনে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন বলেন, “চলমান দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা ও সম্পদ রক্ষায় ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শহরে শহরে আইনশৃঙ্খলাহীনতা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে চোখ বন্ধ করে বসে থাকবেন না।”