Published : 21 Nov 2025, 10:23 PM
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্ণাটক রাজ্যে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা সেজে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ৭ কোটি রুপি (৮,০০০০০ ডলার) বহনকারী একটি গাড়ি থামিয়ে অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার প্রকাশ্য দিবালোকে বেঙ্গালুরু নগরীর প্রাণকেন্দ্রে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির পর ডাকাতদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে।
বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং বিবিসি-কে জানান, নগরীর ব্যস্ত রাস্তায় একটি এসইউভি গাড়িতে আসা ছয়জন অর্থ বহনকারী ভ্যান থামায়।
ভ্যানটি এক ব্যাংকের শাখা থেকে অন্য শাখায় রুপি নিয়ে যাচ্ছিল। ভ্যানে একজন চালক, একজন নগদ জিম্মাদার এবং দুই জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।
সিং বলেন, ডাকাতরা ভ্যানে থাকা আরোহীদের বলেছিল, তারা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের কর্মকর্তা। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিবহনের জন্য সঠিক কাগজপত্র আছে কি না, তা তারা যাচাই করে দেখবে।
এরপর ডাকাতরা নগদ তত্ত্বাবধায়ক এবং রক্ষীদের অস্ত্রগুলো ভ্যানে রেখে এসইউভি গাড়িটিতে ওঠার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে, চালককে নগদ অর্থসহ ভ্যানটি চালিয়ে নিয়ে যেতে বলে।
এসইউভি গাড়িটি কয়েক কিলোমিটার ধরে ভ্যানের পেছনে আসে। এরপর ডাকাতরা চালককে ভ্যান থেকে জোর করে নামিয়ে দেয় এবং এসইউভি গাড়ি থেকে নগদ জিম্মাদার এবং রক্ষীদেরও বের করে দেয়।
তারপর অস্ত্রের মুখে ভ্যান থেকে রুপি নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে ডাকাতরা চম্পট দেয়। যে স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা খুব একটা ছিল না।
ডাকাতরা এই অভিযানে একাধিক গাড়ি ব্যবহার করেছে কিনা পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। অর্থ পরিবহন সেবাদানকারী সংস্থা এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বিবিসি-কে জানান, ডাকাতিতে ব্যবহার করা এসইউভি গাড়িটিতে ভুয়া নম্বর প্লেট এবং 'গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া' লেখা স্টিকার লাগানো ছিল।
তিনি আরও জানান, কোম্পানির কোনও কর্মী ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা পুলিশ তাও তদন্ত করে দেখছে।
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত এসইউভি গাড়িটি উদ্ধার করেছে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেছেন, সন্দেহভাজনরা কোন গাড়িতে করে পালিয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ডাকাতরা গাড়ি বদল করে রুপি স্থানান্তর করেছিল, সেটি যাচাই করে দেখা হয়েছে।
জি পরমেশ্বর আশা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ শিগগিরই এ রহস্য উদঘাটন করবে। যেমনটি কর্ণাটকের সাম্প্রতিক অন্যান্য বড় ব্যাংক ডাকাতির ক্ষেত্রে তারা করেছে।
এর আগে গত মে মাসে বিজয়পুরা জেলার একটি ব্যাংক থেকে ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে ৫৯ কেজি সোনা চুরি হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ৫৩ কোটি রুপি।
পুলিশ পরে ৩৯ কেজি সোনা ও কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করে এবং ওই ঘটনায় সাবেক দুই ব্যাংককর্মীসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।