Published : 12 Mar 2026, 06:45 PM
টানা দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরও ইরানের নেতৃত্ব পরিচালনা এখনও অক্ষুন্ন এবং শিগগিরই শাসনব্যবস্থা পতনের ঝুঁকি নেই। সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র বুধবার একথা জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ধারাবাহিক বিশ্লেষণ বলছে, “ইরান সরকার পতন হওয়ার কোনও বিপদে নেই এবং দেশের জনগণের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে।” গত কয়েক দিনে সর্বশেষ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের বাড়তে থাকা দাম নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ২০০৩ সালের পর চালানো সবচেয়ে বড় এই সামরিক অভিযান তিনি ‘শিগগিরই’ শেষ করবেন।
তবে ইরানের কট্টরপন্থি নেতারা যদি দৃঢ় অবস্থানে অটল থাকেন তাহলে যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি টানা কঠিন হতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলেও দেশটিতে ধর্মীয় নেতৃত্বে সংহতি বজায় আছে।
ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের কর্মকর্তারাও রুদ্ধদ্বার আলোচনায় একথা স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের ফলে ইরানে ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
তবে সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক গতিশীলতা বদলে যেতে পারে।
মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তর এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউজও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনও জবাব দেয়নি।
লক্ষ্য পরিবর্তন:
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন নিশানায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে আছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ইরানে যুদ্ধের বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছে। মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিজ দেশের সরকারকে উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে পরে ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা তাদের অভিযানের লক্ষ্য নয়।
হামলায় খামেনি ছাড়াও ইরানের আরও কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) উচ্চপদস্থ অনেক কমান্ডার নিহত হন। আইআরজিসি একটি শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী, যারা ইরানের অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির মৃত্যুর পর আইআরজিসি এবং ক্ষমতা নেওয়া অন্তর্বর্তী নেতারা এখনও দেশটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।
ইরানের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের সংগঠন ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ চলতি সপ্তাহের শুরুতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতাবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করেছে।
ওদিকে, সংশ্লিষ্ট আরেক সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল বর্তমান সরকারের কোনও অংশই অবশিষ্ট রাখতে চায় না। তবে বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় কীভাবে সরকার পতন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এজন্য হয়ত স্থল অভিযান চালানোর প্রয়োজন পড়তে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়েও দেয়নি।
কুর্দি বিদ্রোহীদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ:
রয়টার্স গত সপ্তাহে প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছিল যে, প্রতিবেশী দেশ ইরাকে অবস্থান করা ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
এ ধরনের হামলা হলে তা ইরানের নিরাপত্তা সেবার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে করে ইরানিরা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ফুঁসে উঠতে পারে।
ইরানি কুর্দিস্তান কমালা পার্টির নেতা আবদুল্লাহ মোহতাদি বুধবার এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তারা ইরানের ভেতরে দলগতভাবে খুবই সুসংগঠিত এবং তাদের হাজার হাজার তরুণ যোদ্ধা সরকারের বিরুদ্ধে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে প্রস্তুত যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতি প্রতিবেদনে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও জনবল কুর্দিদের নেই।
সম্প্রতি এই গোষ্ঠীগুলো ওয়াশিংটনের কাছে সাঁজোয়া যান ও অন্যান্য অস্ত্র চেয়েছে। ট্রাম্প গত শনিবার জানিয়েছেন, ইরানি কুর্দিদের ইরানে পাঠানোর বিষয়টি তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।