Published : 26 Jan 2026, 10:12 AM
গাজায় অবশিষ্ট শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মৃতদেহের সন্ধানে অভিযান সম্পূর্ণ হওয়ার পরই কেবল মিশরের সঙ্গে ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির যোগাযোগের একমাত্র পথ রাফা ক্রসিং খুলে দেবে ইসরায়েল।
রোববার রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে এমনটি জানিয়েছে; খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
গাজার শাসক গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী অক্টোবরে এক যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে বন্ধ হয়। যুদ্ধ শেষ করতে করা ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রথম পর্বেই রাফা ক্রসিং খোলার কথা ছিল।
তবে ইসরায়েল শর্ত দিয়েছিল, রাফা ক্রসিং ফের খোলার বিষয়টি নির্ভর করবে গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে বন্দি জীবিত সব জিম্মিকে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি হামাস সব মৃত জিম্মিদের মৃতদেহ শনাক্ত করতে ‘শতভাগ প্রচেষ্টা চালাবে’ ও সেগুলো ফেরত দেবে।
এ পর্যন্ত সবই ফেরত দেওয়া হয়েছে শুধু ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা রান গভিলি মৃতদেহ বাদ রয়েছে।
রোববার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গভিলির দেহাবশেষ উদ্ধার করতে গাজার উত্তরাঞ্চলে এক ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে অভিযান’ শুরু করেছে তারা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গভিলির দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন জায়গার বিষয়ে তাদের কাছে ‘বেশ কিছু গোয়েন্দা নির্দেশনা’ ছিল।
বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, মাস্টার সার্জেন্ট রান গভিলির দেহাবশেষ খুঁজে বের করে ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন ‘সংগৃহীত সব গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে একটি কেন্দ্রীভূত অভিযান পরিচালনা করছে’।
এই অভিযান শেষ হওয়ার পর ‘ইসরায়েল রাফা ক্রসিং খুলে দেবে’ বলে জানিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজার অস্থায়ী প্রশাসক ‘অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি কমিটির’ প্রধান আশি শাত বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, রাফা ক্রসিং চলতি সপ্তাহে খুলে দেওয়া হতে পারে।
গাজার ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দার ছিটমহলটির বাইরে যাওয়ার ও ফিরে আসার একমাত্র পথ এই রাফা ক্রসিং।
ক্রসিংটির গাজার পাশটি ২০২৪ থেকে দখল করে রেখেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েল শুধু পথচারীদের যাতায়াতের জন্য ইসরায়েল নিজেদের একটি পূর্ণ পরির্দশন ব্যবস্থার অধীনে রাফা ক্রসিং সীমিত পরিসরে ফের খুলে দিতে সম্মত হয়েছে।
চলতি মাসে ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছে, গাজা শান্তি পরিকল্পনা এর দ্বিতীয় পর্বে প্রবেশ করেছে। এই পর্বে ইসরায়েল গাজা থেকে আরও সেনা প্রত্যাহার করবে এবং হামাস অঞ্চলটির প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, মিশরের এই সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে প্রবেশকারী ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় ইসরায়েল যেন ভেতরে প্রবেশকারীদের চেয়ে বাইরে চলে যাওয়াদের সংখ্যা বেশি হয়।