Published : 18 Jun 2026, 08:14 PM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক সইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রথম সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি সুপারট্যাংকার ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে পার হয়েছে।
ওদিকে, লেবাননে দীর্ঘদিন ধরে ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসা ইসরায়েল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও বৃহস্পতিবার সকালে ফের বিমান হামলা চালিয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে ১৪ টি দফার মধ্যে প্রথম দফাতেই এই চুক্তি সইয়ের পর থেকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল লেবাননে লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ওই শর্ত পূরণে মিত্রদেশটিকে হামলা বন্ধে কতটা বাধ্য করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবারেই যুদ্ধ অবসানে সমঝোতা স্মারক সই করেন, যেখানে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এটি সই হওয়ার কথা ছিল আগামী শুক্রবার। কিন্তু বুধবার সই হওয়ার কারণে চুক্তিটি দুইদিন আগেই কার্যকর হয়েছে।
চুক্তিতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিও তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্ত আছে।
শিপিং কোম্পানিগুলো যদিও বলছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, এই জলপথ এখনও জাহাজ চলাচলের নিরাপদ নয় এবং মাইন অপসারণের কাজ এখনও বাকি আছে। তারপরও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির তাৎক্ষণিক প্রভাবের লক্ষণ দেখা গেছে হরমুজে।
তেলবাহী তিনটি সৌদি সুপারট্যাংকারের হরমুজ প্রণালি সফলভাবে পাড়ি দেওযার ঘটনা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর ডেটা বিশ্লেষণ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তির পর এটিই গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজের বহির্গমন।
তাছাড়া, আগে যে জাহাজগুলো ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে তাদের অবস্থান গোপন রেখে হরমুজে চলাচল করছিল এখন তারা তাদের অবস্থান গোপন না করেই হরমুজ পাড়ি দেওয়ার পথে আছে।