Published : 16 Jan 2026, 10:09 AM
জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সাহসী জনগণের’ পাশে আছে এবং ‘হত্যাযজ্ঞ বন্ধে সব বিকল্পই যে খোলা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন’।
বৃহস্পতিবার বৈশ্বিক সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদকে তিনি এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনাভিযানে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। ট্রাম্প কয়েকবারই বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিয়েছিলেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার তাকে অনেকটাই সংযত মনে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি ‘অপেক্ষা করা ও পরে ব্যবস্থা নেওয়ার’ চিন্তা করছেন। মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানে হত্যাযজ্ঞ কমেছে বলে তাকে বলা হয়েছে এবং দেশটি বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছে না বলেও তার ধারণা।
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাজের লোক, তিনি অন্তহীন কথাবার্তার লোক না যেমনটা আমরা জাতিসংঘে দেখি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হত্যাযজ্ঞ বন্ধে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে,” ওয়াশিংটনের অনুরোধে হওয়া নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এমনটাই বলেছেন ওয়াল্টজ।
বিক্ষোভ ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত করে দেওয়া বিদেশি ষড়যন্ত্র’ তেহরানের এমন অভিযোগও খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।
“বিশ্বের সবারই জানা দরকার যে ইরানের শাসকরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল, আর সে কারণেই রাস্তায় নেমে আসা ইরানি জনগণের শক্তির মুখে তারা এমন মিথ্যাকে সামনে এনেছে। তারা ভীত, তারা নিজের দেশের লোকজনকে নিয়েই ভীত,” বলেছেন ওয়াল্টজ।
জাতিসংঘে ইরানের সহকারী রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেন দরজি বলেছেন, ইরান উত্তেজনা বাড়াতে বা সংঘাতে জড়াতে চায় না।
তিনি ওয়াল্টজের বিরুদ্ধে ‘ইরানের অস্থিরতাকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে তার দেশের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি লুকাতে মিথ্যা বলা, তথ্য বিকৃতি ও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রচারের’ অভিযোগ আনেন।
“তবে, যে কোনো ধরনের আগ্রাসন, তা সে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যা-ই হোক না কেন, তার জবাব হবে কঠোর, যথোপযুক্ত ও আইনসম্মত। এটা হুমকি নয়, আইনি বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া,” নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন দরজি।
জাতিসংঘে রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, নিজেদের ‘নির্লজ্জ আগ্রাসনকে বৈধতা দিতে ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপকে’ জায়েজ করতে এবং ‘ইরানি সমস্যাকে তাদের সবচেয়ে পছন্দের উপায়ে, তাদের অপছন্দের শাসন ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলার’ হুমকি দিতে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠক ডেকেছে।
“আমরা ওয়াশিংটন ও অন্যান্য রাজধানীর মাথা গরম লোকদের হুঁশে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি,” বলেছেন তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘সংবেদনশীল এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং আরও প্রাণহানি কিংবা বিস্তৃত আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন’, নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মার্থা পবি।