Published : 18 May 2026, 09:21 PM
পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান।
এ পদক্ষেপ নিয়ে পাকিস্তান ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসাবে প্রধান ভূমিকা পালন করার মধ্যেও সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করল।
পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েনের পূর্ণ চিত্র এবারই প্রথম সামনে এল। তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুই সরকারি কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন।
তারা এই পদক্ষেপকে একটি বড় ধরনের এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর উদ্দেশ্য, সৌদি আরব আবার কোনো হামলার শিকার হলে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা।
তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের সরকারি গণমাধ্যম শাখা- কেউই এই বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
গত বছর প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। এই চুক্তির পূর্ণ শর্তাবলি গোপন রাখা হয়েছে। তবে দুই পক্ষই জানিয়েছে, তাদের কেউ আক্রান্ত হলে পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে একে অপরের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে আভাস দিয়েছিলেন যে, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক সুরক্ষার আওতায় এসেছে।
তিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুই সরকারি কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমানের একটি পূর্ণ স্কোয়াড্রন পাঠিয়েছে, যার বেশির ভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ জঙ্গিবিমান।
গত এপ্রিল মাসের শুরুতে বিমানগুলো সৌদি আরবে পাঠানো হয়। দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তান দুই স্কোয়াড্রন ড্রোনও পাঠিয়েছে।
আর পাঁচ কর্মকর্তাই জানিয়েছেন, প্রায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েন হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি চীনা এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে।
এসব সরঞ্জাম পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা পরিচালনা করছেন এবং সৌদি আরব এর খরচ বহন করছে বলেও জানান তারা।
দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধের মধ্যে মোতায়েন হওয়া সামরিক ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা মূলত উপদেষ্টা হিসাবে এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার ভূমিকা পালন।
তিন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আগের একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে ইতোমধ্যে হাজারো পাকিস্তানি সেনা আছে। তাদের সঙ্গে এই নতুন বাহিনী যুক্ত হচ্ছে।
গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল নথি দেখেছন, এমন এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি দেশটির সীমান্ত সুরক্ষায় সহায়তার জন্য ৮০ হাজার পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের সুযোগ রয়েছে চুক্তিতে।
দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছে কি না, তা বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি।
কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাপক পরিমাণে যুদ্ধবিমান, সেনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, পাকিস্তান কেবল প্রতীকী বা উপদেষ্টা মিশন পাঠায়নি; বরং এর চেয়ে বেশি কিছুই পাঠিয়েছে।
রয়টার্স আগেই জানিয়েছিল, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের হামলায় এক সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সেখানে যুদ্ধবিমান পাঠায়।
ওই হামলার পর সৌদি আরব প্রতিশোধ নিতে পারে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
পাকিস্তান ইরান যুদ্ধের প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আগে দিয়ে ওই ঘটনা ঘটেছিল। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়, যা গত ৬ সপ্তাহ ধরে বজায় রয়েছে।
পাকিস্তান এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি মাত্র শান্তি আলোচনা আয়োজন করেছে। দেশটি পরবর্তী আলোচনার পরিকল্পনাও করেছিল। তবে পরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তা বাতিল করে।