Published : 03 Jul 2025, 02:42 PM
ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাজ্যের নিরঙ্কুশ সমর্থনের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের কর্মীরা একটি সামরিক ঘাঁটিতে হানা ও দুটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত করার পর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা।
বুধবার হাউজ অব কমন্সে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি ৩৮৫-২৬ ভোটে গৃহীত হয় বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবটি এখন উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে যাবে। সেখানে অনুমোদিত হলে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনটির ওপর নিষেধাজ্ঞা কয়েকদিনের মধ্যেই কার্যকর হবে।
নিষিদ্ধ হলে সংগঠনটি যুক্তরাজ্যের আইনে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা আল-কায়েদার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে একই কাতারে বিবেচিত হবে। অর্থ্যাৎ, এই ধরনের কোনো সংগঠনের সদস্য হলে কিংবা সমর্থন দিলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, নিজেদের কর্মকাণ্ডকে ‘সরাসরি অভিযান আন্দোলন’ বলা প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেসব কোম্পানি ব্রিটেনে সক্রিয় তাদের কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে বিঘ্ন ঘটিয়ে আসছে। এসব কোম্পানির মধ্যে আছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমস, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন এ কোম্পানিকে তাদের ‘মূল নিশানা’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দিয়েছে।
২০২২ সালে থ্যালেসের একটি কারখানা, গত বছর এলবিটের একটি স্থাপনা এবং গত মাসে দক্ষিণ ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে এই সংগঠনটির চালানো ‘নাশকতায়’ কোটি কোটি পাউন্ডের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারের। এসব নাশকতার কারণেই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলেও ভাষ্য তাদের।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন তাদের নিষিদ্ধ করতে সরকারের পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ এবং ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ অ্যাখ্যা দিয়েছে। তারা এরই মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, এ নিয়ে শুক্রবারই একটি জরুরি শুনানি হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের নিয়োগ দেওয়া বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাজ্যকে তাদের পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেছেন। তারা বলছেন, প্রাণহানির উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে যেসব কাজ করা হয় সেগুলোকে সন্ত্রাসী কাজ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলছেন, বৈধ প্রতিবাদে সহিংসতা ও অপরাধমূলক ক্ষয়ক্ষতির কোনো স্থান নেই। তাছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতা নীতিও প্রয়োজন।
মঙ্গলবারও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের কর্মীরা দক্ষিণপশ্চিম ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে এলবিটের একটি স্থাপনার প্রবেশপথ অবরোধ করে এবং ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের সাফোকে একটি সাব-কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির ছাদ দখলে নেয়। ওই সাব-কন্ট্রাক্টিং কোম্পানিটির সঙ্গে এলবিটের যোগসাজশ আছে বলে ভাষ্য সংগঠনটির।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গাজায় ইসরায়েলের অমানবিক যুদ্ধ ও নির্বিচারে মানুষ হত্যা বন্ধে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ চায়। এদিকে তেল আবিব বলছে, গাজা যুদ্ধে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনাই ঘটাচ্ছে না। যদিও তাদের ভাষ্যের সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এমনকী শীর্ষ পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্যও মিলছে না।