Published : 11 Jun 2026, 10:21 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে সব ধরনের তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, কোনও জাহাজ এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাতে আঘাত হানা হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটটি পারস্য উপসাগরের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উন্মুক্ত সাগরে পৌঁছানোর একমাত্র পথ, যা দিয়ে সাধারণ সময়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় এই জলপথটি ইরানের জন্য দর কষাকষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে আছে।
এই শান্তি আলোচনা চলকালে ইরান অবরোধের মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে এ পর্যন্ত কিছু জাহাজকে চলাচল করতে দিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ২০ লাখ ডলার টোল নেওয়ার বিনিময়েও জাহাজ চলাচল করতে দিয়েছে বলেও শোনা গেছে।
তাহলে এখন কেন আবার ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিল?
মূলত চলতি সপ্তাহে ইরানের বন্দর আব্বাস, কিশম দ্বীপ ও সিরিক অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে চলা মার্কিন হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি পুরো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তেহরানের সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের হামলাকে ‘আত্মরক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করে জানায়, সোমবার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে তারা ওই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন হামলা এবং জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানে আরও ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুশিয়ারি দেওয়ায় দুই পক্ষের সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
ঝুঁকিতে কূটনীতি ও জাহাজ চলাচল:
এই সংঘাতের জেরে গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত ভঙ্গুর সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা গভীর সংকটে পড়েছে।
বিশেষ করে শান্তি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মূল মতবিরোধ রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা বড় ধরনের যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।
এর আগে হরমুজ অবরোধের মধ্যে ইরান চীন ও ভারতসহ কয়েকটি দেশের অ-মার্কিন মিত্র জাহাজকে মোটা অঙ্কের টোলের বিনিময়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও এই রুটে অন্তত ২২টি জাহাজে হামলা হয়েছে।
সম্প্রতি ওমান উপকূলে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টাকালে একটি জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহতের ঘটনায় নতুন দিল্লির পক্ষ থেকে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে অচল অবস্থা গত কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আশস্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অবরোধের পর তেলের দাম ব্যারেল প্রতি সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, যা বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের নতুন হামলার হুমকির পর কিছুটা বেড়ে পরবর্তীতে ৯৩.১৮ ডলারে থিতু হয়। তেলের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সার ও ওষুধ সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।