Published : 08 Jun 2026, 06:44 PM
ভারতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তৃণমূলের ভাঙনের আঁচ এবার পৌঁছে গেল দিল্লিতেও। রোববার রাতে দিল্লিতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে করেছেন তৃণমূলের অন্তত ১০ জন বিদ্রোহী এমপি।
ঘটনাচক্রে এই বৈঠক চলার সময়েই রাজধানী দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে যান তারা।
এর মধ্যেই বিজেপি নেতা ভূপেন্দর যাদবের বাসভবনে তৃণমূল সাংসদদের এই গোপন বৈঠক হয়। পশ্চিমবঙ্গে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের ভেতরের অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দু এখন কেবল কলকাতাই নয়, বরং দিল্লিও।
বিদ্রোহী এমপি’দের এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালীপদ সোরেন, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও শর্মিলা সরকার। কয়েক ঘণ্টা আগে দল ত্যাগ করা সুখেন্দু শেখর রায় এবং বিধায়ক আখরুজ্জামানও বৈঠকে ছিলেন।
ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভা মিলিয়ে তৃণমূলের মোট সাংসদের সংখ্যা ৪১। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দলবদল করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এই এমপি’রা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খুশি নন এবং পার্লামেন্টে আলাদা গোষ্ঠী গড়ার পথে আছেন।
তৃণমূলের বিদ্রোহী এমপি শর্মিলা সরকার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বলেন, “আমরা ২০ এমপি’র একটি আলাদা বক্ল গড়ব এবং বিজেপি’র এনডিএ জোটকে সমর্থন দেব। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আমাদের চিফ হুইপ এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় আমাদের উপনেতা।”
এক সূত্র জানিয়েছেন, বিজেপি নেতার ভূপেন্দরের বাড়িতে দু’টি সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এক, স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠি দিয়ে জানানো হবে যে, তাদের নেতা আর অভিষেক বন্দোপাধ্যায় নন। তাদেরকে এবার থেকে সংসদে ‘ভিন্ন গোষ্ঠী’ বলে চিহ্নিত করা হোক। দুই, গণপদত্যাগ করা যায় কি না, তা নিয়েও উপস্থিত সাংসদরা আলোচনা করেছেন।
দু’টির একটি সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হলে দিল্লিতে বসে বড় ধাক্কা খেতে পারেন মমতা। ‘ইন্ডিয়া’ জোটে আরও কোণঠাসা হতে পারেন তিনি।
নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর এরই মধ্যে আইনপ্রণেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দলের ৮০ জনেরও বেশি বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন সমর্থন দিয়েছেন এবং তারা দলীয় কর্মকাণ্ড বয়কট করছেন।
অভ্যন্তরীন এই বিদ্রোহ কেবল দলীয় কর্মকাণ্ড বয়কটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং দলের শীর্ষ নেতার প্রতি আনুগত্যের জায়গাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে।
কয়েক দশক ধরে দলের নেতা-কর্মীদের কাছে ‘দিদি’ হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন অনেক বিদ্রোহী এমপি সরাসরি নাম ধরে ‘মমতা’ বলে সম্বোধন করছেন।
সূত্র জানায়, খেলাধুলার পটভূমি থেকে আসা একজন এমপি প্রথম এই রীতি ভাঙেন। অন্যদিকে, রূপালী জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা আরেকজন এমপিও নীরবে দল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। উত্তরবঙ্গের আরও দুজন আইনপ্রণেতাও এই বিদ্রোহী তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।